৬৬১ কোটির ব্যাঙ্ক জালিয়াতি! হরিয়ানা ও চণ্ডীগড়ে সিবিআই-এর ম্যারাথন তল্লাশি, নেপথ্যে কারা?

রাজেশের এক্সপোর্টের ১৫ লাখ কোটির বিতর্ক কাটতে না কাটতেই ফের এক বিশাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনায় তোলপাড় দেশ। ৬৬১ কোটি টাকার সরকারি তহবিল তছরুপের অভিযোগে চণ্ডীগড়, পঞ্চকুলা এবং দিল্লি-এনসিআরের ৬টি স্থানে ম্যারাথন তল্লাশি চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)।

কীভাবে চলত এই বিশাল জালিয়াতি? তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, এই জালিয়াতির জাল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক (IDFC First Bank) এবং এইউ ফিনান্স ব্যাঙ্ক (AU Finance Bank)। তদন্তে উঠে এসেছে যে, হরিয়ানা সরকার ও চণ্ডীগড় প্রশাসনের আধিকারিকরা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের একাংশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলেন। এরপর সরকারি তহবিল কৌশলে সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে স্থানান্তরিত করে পরে তা অন্য জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হতো।

কনসালটেন্সি সংস্থার রহস্যময় ভূমিকা সিবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, নয়ডার একটি নামী কনসালটেন্সি সংস্থা ‘ভিপাম কনসালটেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড’ (Vipam Consultancy Pvt Ltd) এই জালিয়াতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করত। সরকারি তহবিল তছরুপের মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকা প্রথমে ওই সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতো এবং পরে তা সংস্থার ডিরেক্টরের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হতো। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকরা বিপুল পরিমাণ অর্থ ‘ঘুষ’ হিসেবে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

কাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে? এই জালিয়াতির ফলে হরিয়ানা সরকারের ৮টি দফতর, চণ্ডীগড় প্রশাসনের ২টি বিভাগ, চণ্ডীগড় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং চণ্ডীগড় রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রমোশন সোসাইটি (CREST)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সিবিআই-এর পরবর্তী পদক্ষেপ শুক্রবারের এই অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডিভাইস, ল্যাপটপ এবং সম্পত্তির নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছেন গোয়েন্দারা। হরিয়ানা এবং চণ্ডীগড়ের বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার দায়ের করা এফআইআর-এর সূত্র ধরেই মামলাটি সিবিআই নিজেদের হাতে নেয়। এরই মধ্যে পঞ্চকুলার একটি বিশেষ আদালতে প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই, যেখানে একাধিক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকের নাম উঠে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি রাঘববোয়ালকে চিহ্নিত করে খুব শীঘ্রই অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করা হবে।