পেনশনের টাকা তুলতে ঠেলাগাড়িতে বৃদ্ধা! সরকারি ব্যাংকের অমানবিকতায় তোলপাড় ফারুখাবাদ

আধুনিক ডিজিটাল যুগেও সরকারি পরিষেবার করুণ দশা ও অমানবিকতার এক চরম নিদর্শন প্রকাশ্যে এল ফারুখাবাদের ফতেহগড় থেকে। ২৬ বছর ধরে পেনশন পাওয়া এক বৃদ্ধাকে পেনশনের টাকা তোলার জন্য ঠেলাগাড়িতে করে ব্যাংকে নিয়ে আসতে হলো তার নাতিকে। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

কী ঘটেছিল?
ভুক্তভোগী কিষাণ পিয়ারি দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে স্বামীর পেনশনের টাকায় সংসার চালান। গত ৩১শে মে একটি দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায়। নাতি মনু, যিনি পেশায় একজন ইউটিউবার, জানান যে গত ৪ঠা জুন তিনি ব্যাংকে গিয়ে দিদিমার পেনশন তোলার চেষ্টা করেন। তার অভিযোগ, ব্যাংকের কর্মীরা তার সাথে দুর্ব্যবহার করেন এবং ম্যানেজার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে সশরীরে হাজির না করলে পেনশনের টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। আঙুলের ছাপ দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় বাধ্য হয়েই বৃদ্ধাকে কষ্ট করে ব্যাংকে নিয়ে আসতে হয়।

অসহায় নাতির যন্ত্রণার কথা:
মনু ও তার বাবা সঞ্জীব পাল জানান, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার সামর্থ্য তাদের ছিল না। গাড়ি করে বৃদ্ধাকে ব্যাংকে নেওয়াও সম্ভব ছিল না কারণ ভাঙা পায়ের যন্ত্রণায় তিনি নড়াচড়া করতে পারছিলেন না। অনন্যোপায় হয়ে শেষ পর্যন্ত একটি ঠেলাগাড়িতে শুইয়ে, রোদ থেকে বাঁচাতে ছাতা ধরে তাকে ব্যাংকে নিয়ে যেতে বাধ্য হন তারা। এই করুণ দৃশ্য দেখে পথচারীরাও হতবাক হয়ে পড়েন।

ব্যাংক ম্যানেজারের সাফাই:
ঘটনার পর মুখ খুলেছেন ফতেহগড়ের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার প্রবেশ কুমার ভার্মা। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা তাদের এক বা দুদিন অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। আমরা প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে টাকা দেওয়ার জন্য কর্মী পাঠানোরও আশ্বাস দিয়েছিলাম।” কিন্তু কেন বৃদ্ধাকে ঠেলাগাড়িতে আসতে হলো, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ম্যানেজার দাবি করেছেন, যদি তারা পুনরায় যোগাযোগ করতেন, তাহলে এমন পরিস্থিতি হয়তো তৈরি হতো না।

তীব্র নিন্দার মুখে প্রশাসন:
ব্যাংক কর্মকর্তাদের এই আচরণে প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মনে—ব্যাংকের ডিজিটাল সুরক্ষা কি মানুষের জীবনের কষ্টের চেয়ে বড়? একজন পঙ্গু বৃদ্ধার প্রতি ন্যূনতম মানবিকতা না দেখিয়ে কেন তাকে ব্যাংকে আসতে বাধ্য করা হলো? নেটিজেনরা এই ঘটনাকে ব্যাংকিং পরিষেবার ‘লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।