ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কাশীতে! নবরাত্রির আগেই শহর থেকে সরছে সমস্ত মাংস-মাছের দোকান

ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নগরী কাশীর মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল বারাণসী পৌরসভা। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে মাংস, মাছ এবং আমিষের দোকান সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী শারদীয় নবরাত্রির আগেই এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
শহরের মেয়র অশোক কুমার তিওয়ারি জানান, “কাশী বাবা বিশ্বনাথ ও মা অন্নপূর্ণার পবিত্র ভূমি। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এখানে আসেন। তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতি ও নগরীর পৌরাণিক সাংস্কৃতিক চরিত্র অটুট রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” মূলত শহরের কেন্দ্রস্থলে আমিষের দোকান বন্ধ করে সেগুলোকে শহরের বাইরের নির্দিষ্ট সীমানায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যে ৫টি জায়গায় বসবে নতুন বাজার:
পৌর কমিশনার হিমাংশু নাগপাল জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও শৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে শহরের উপকণ্ঠে পাঁচটি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন থেকে শুধুমাত্র এই জায়গাগুলোতেই মাংস ও মাছের ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে:
রামনগর
সুজাবাদ
গণেশপুর
আওয়ালেশপুর
শিবপুর
এই পাঁচটি স্থানের বাইরে শহরের অন্য কোথাও আমিষ খাবার বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। পৌরসভা প্রতিটি ব্যবসায়ীর জন্য লাইসেন্সের ব্যবস্থা করবে, যাতে তারা সুপরিকল্পিত ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্যবসা করতে পারেন।
কাউন্সিলরদের দীর্ঘদিনের দাবি:
পৌরসভার বৈঠকে কাউন্সিলর গুলশান আলী এই বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, বিশেষ করে শ্রাবণ মাসে দোকানপাট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েন। তাদের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে শহরের উপকণ্ঠে স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করার বিষয়টি জরুরি হয়ে পড়েছিল। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পৌর প্রশাসন দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তি:
মেয়র স্পষ্ট করেছেন, ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো উদ্দেশ্য কর্তৃপক্ষের নেই। পরিকল্পিত অবকাঠামো তৈরি করে এবং বৈধ লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে তাদের ব্যবসার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন ভক্তদের ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় থাকবে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও স্থায়ী ঠিকানায় নির্ভয়ে ব্যবসা চালাতে পারবেন।