পৈতৃক ভিটে বিক্রিতে বাধা! দিল্লির অধ্যাপিকাকে খুনের পর হাত কাটালেন ভাড়াটিয়ারা?

পৈতৃক ভিটে হাতানোর জন্য নৃশংসতার সমস্ত সীমা পার করলেন ভাড়াটিয়ারা। নিজের ফ্ল্যাটেই খুন হতে হলো দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা ৪৫ বছর বয়সী ডঃ দেবস্মিতা পালকে। ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকায়। নৃশংসভাবে খুনের পর অপরাধীরা অধ্যাপিকার কব্জি পর্যন্ত কেটে দেয় বলে অভিযোগ।

কীভাবে ফাঁস হলো রহস্য?
২০২২ সাল থেকে বসুন্ধরা এনক্লেভের ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন ডঃ পাল। গত ৪ জুন তাঁর বোন দেবর্তি পাল বারবার ফোন করেও কোনো সাড়া না পেয়ে ফ্ল্যাটে যান। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয় এবং তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই তিনি দেবস্মিতার রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় নিউ অশোক নগর থানায়।

হত্যার নেপথ্যে কী কারণ?
দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার রাজীব কুমার জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ কলকাতার একটি মূল্যবান পৈতৃক সম্পত্তি। অভিযুক্ত দম্পতি ওই বাড়িতেই ভাড়া থাকতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি কেনার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িটি বিক্রি করতে রাজি হলেও, ডঃ দেবস্মিতা কোনোভাবেই পৈতৃক স্মৃতিবিজড়িত সেই জমি হাতছাড়া করতে রাজি ছিলেন না। এই জেদই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

পরিকল্পিত খুন ও গ্রেপ্তার:
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, দেবস্মিতাকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্ত দম্পতি কলকাতা থেকে দিল্লিতে এসে বুধবার তাঁর ফ্ল্যাটে হানা দেয়। এরপর অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁকে হত্যা করে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে কলকাতায় পালিয়ে যায় তারা। প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে কলকাতা থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নিয়ে আসা হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

একই পরিবারের মতো থাকা ভাড়াটিয়াদের এমন ভয়াবহ রূপ দেখে শিউরে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। একজন মেধাবী শিক্ষিকার এমন করুণ পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে।