‘তৃণমূল নেতারা লুঠপাটে মত্ত!’ বাগডোগরায় নেমেই হুঙ্কার মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের

রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করলেন অগ্নিমিত্রা পাল। বাগডোগরা বিমানবন্দরে পা রেখেই তিনি পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং উন্নয়নে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন।
তৃণমূলকে ‘চোর’ কটাক্ষ:
তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা স্লোগান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল নেতারা তোলাবাজি ও লুঠপাটে মত্ত। মানুষ তাদের প্রকৃত চরিত্র বুঝে গিয়েছে, তাই তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।” তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, তা সরকার কঠোরভাবে খতিয়ে দেখবে এবং প্রতিটি নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাই করা হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি:
সংখ্যালঘু শিক্ষার নামে রাজনীতির অবসান চেয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “মাদ্রাসার পরিকাঠামোর নামে ৫,৭১৩ কোটি টাকা অনুদানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কতজন শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাচ্ছে এবং টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোনো সম্প্রদায়কে যেন ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার না করা হয়।” তাঁর দাবি, সব সম্প্রদায়ের মানুষই প্রকৃত শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ পাওয়ার অধিকারী।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও বঞ্চনা:
উত্তরবঙ্গকে দীর্ঘদিন অবহেলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এতদিন শুধুমাত্র উৎসবে ব্যস্ত ছিল, উন্নয়নের দিকে নজর ছিল না। মন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। পাহাড় ও সমতলের উন্নয়নে কোনো আপস করা হবে না। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও মিরিকের পরিস্থিতির সরেজমিনে তদন্ত করা হবে।”
পাহাড় ও প্রশাসন:
বন্যায় যাতে কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করাকে তিনি প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও বিএসএফ-এর জমি সংক্রান্ত বিতর্কে তিনি রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার মনোভাবের সমালোচনা করে বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে সমন্বয় ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
তৃণমূল সাংসদদের দল ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী জানান, আদর্শহীন দলের ভাঙন অনিবার্য। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি এদিন পুনরায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন।