কৃষ্ণনগরে মর্মান্তিক! হস্টেলের শৌচালয় থেকে উদ্ধার প্রথম শ্রেণির ছাত্রীর দেহ, খুনের অভিযোগ সৎ বাবার

কৃষ্ণনগরের এক নামী বালিকা বিদ্যালয়ের হস্টেল থেকে সাত বছরের এক নাবালিকা ছাত্রীর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত শিশুটির নাম সঞ্জনা মণ্ডল। প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনাটি ঠিক কী?
শনিবার সকালে হস্টেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি ছুটে যান মৃত ছাত্রীর সৎ বাবা অনিমেষ সাহা। অনিমেষবাবুর অভিযোগ, তাঁকে কোনো স্পষ্ট কারণ না জানিয়েই দ্রুত হস্টেলে আসার জন্য বলা হয়। পরে ফোন করে জানানো হয়, মেয়ে আর নেই। হস্টেলে পৌঁছে তিনি দেখেন, বাথরুমের সামনে পড়ে রয়েছে সঞ্জনার নিথর দেহ। তাঁর দাবি, শিশুটির নাক ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা থেকে স্পষ্ট এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই তাঁর সন্দেহ।

কী বলছে পুলিশ?
খবর পেয়েই কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী জানান, মৃতদেহটি উদ্ধার করে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল এবং পরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পরিবারের দাবি:
জানা গিয়েছে, সঞ্জনার মা কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন। তাই সৎ বাবা অনিমেষ সাহাই মেয়েটির দেখাশোনা করতেন। সঞ্জনার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোকাতুর অনিমেষবাবু পুলিশকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল, ওকে মেরে ফেলা হয়ে থাকতে পারে।”

উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী এই বালিকা বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের পাশাপাশি হস্টেলের ব্যবস্থাও রয়েছে। হস্টেলের মতো সুরক্ষিত স্থানে কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এলাকাজুড়ে তোলপাড় চলছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।