এনআইএ-র জালে শওকত মোল্লা! বামুনিয়া বিস্ফোরণ কাণ্ডে জেরার মুখে প্রাক্তন বিধায়ক

বৃহস্পতিবার দিনভর তল্লাশি, গা-ঢাকা দেওয়া নিয়ে তীব্র জল্পনা, আর অবশেষে শনিবার কামালগাজি থেকে এনআইএ (NIA)-র হাতে গ্রেফতারি—এই নাটকীয় পরিস্থিতির শেষে এখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির কঠোর নজরদারিতে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা। আপাতত ১৪ দিনের হেফাজত শেষে তাঁকে দফায় দফায় জেরা করছেন তদন্তকারীরা।

বামুনিয়া বিস্ফোরণ ও জেরা:
দক্ষিণ বামুনিয়ার বিস্ফোরণ কাণ্ডে শওকত মোল্লাকে ‘মূল অভিযুক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনআইএ। রবিবার থেকে শুরু হয়েছে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার আগে বোমা মজুত করা, পুরো পরিকল্পনার ছক এবং ঘটনার পর তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ধৃত অন্যদের বয়ানের সঙ্গে শওকতের বয়ান মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ফোনে লুকিয়ে রহস্য:
তদন্তের জাল আরও শক্ত করতে শওকত মোল্লাসহ ধৃত চারজনের মোবাইল ফোন ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এজেন্সির ধারণা, ওই ফোনের কল লিস্ট, মেসেজ এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটেই লুকিয়ে আছে ঘটনার আগের এবং পরের যোগসূত্রের আসল রহস্য। বিস্ফোরণের দিন কার কার সঙ্গে শওকত যোগাযোগ করেছিলেন, তা উদ্ধার করতে মরিয়া তদন্তকারীরা।

নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগও:
শুধু বিস্ফোরণ কাণ্ডই নয়, শওকতের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগও নতুন নয়। একসময় সিবিআই (CBI)-এর নজরেও ছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগে নিজের ১৭ জনেরও বেশি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-পরিজনকে গ্রুপ সি ও ডি পদে চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন শওকত। আদালতের নির্দেশে পরে সেই চাকরিগুলিও বাতিল (ব্ল্যাক লিস্টেড) করা হয়। এমনকি তাঁর দুই মেয়ের চাকরি নিয়েও রয়েছে বিস্তর সন্দেহ। সিবিআই ও ইডি (ED)-এর দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর বাড়িতেও একাধিকবার তল্লাশি চালিয়েছেন আধিকারিকরা।

আদালত থেকে বেরোনোর সময় প্রকাশ্যে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করলেও, এলাকাবাসীর ক্রমবর্ধমান অভিযোগ এবং একের পর এক দুর্নীতির নথিতে এখন রীতিমতো কোণঠাসা প্রাক্তন বিধায়ক। তদন্তের এই পর্যায়ে শওকতের বিরুদ্ধে আরও কোনো বড় তথ্য উঠে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।