‘দুষ্কৃতীদের আমার ওপর ছেড়ে দিন’, স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই অপরাধী ও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ফের একবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে দুষ্কৃতীদের কোনো জায়গা নেই। তাঁর হুঁশিয়ারি, “তৃণমূল আমলে যে সমস্ত দুষ্কৃতী মাথাচাড়া দিয়েছিল, তারা একে একে পালাচ্ছে। বাকি যারা আছে, তাদের আমার ওপর ছেড়ে দিন।”

আবহাওয়া বদলের ইঙ্গিত
অনুষ্ঠানে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পালাবদলের পর আবহাওয়া বদল হচ্ছে তো? দেখতে থাকুন, আরও আবহাওয়া বদল হবে।” একইসঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়ে তিনি জানান, এই রাজ্যে কেবল ভারতের নাগরিকরাই স্থায়ীভাবে থাকতে পারবেন। অনুপ্রবেশকারীদের পরিণতি কী হবে, তা মানুষ ইতিমধ্যে দেখতে শুরু করেছে।

শিল্পবান্ধব পরিবেশ ও বিনিয়োগের ডাক
শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করে নেন যে, গত কয়েক বছরে রাজ্যে শিল্পের গতি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং প্রশাসনিক স্তরে রাজনীতিকরণ বেড়েছিল। পুলিশকে ক্যাডারে পরিণত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, “আর নয়। এটি মানুষের সরকার। অতীত এখন শুধুই অতীত। প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদে এ রাজ্যে এখন উন্নয়নের নতুন গতি আসবে।”

পাশাপাশি, তিনি উপস্থিত শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান। দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পূর্ণ না হতেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কাজ করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে, তবে তিনি লক্ষ্যপূরণে অবিচল। রাজ্যজুড়ে গো-শালা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও দেন তিনি।

শিক্ষা সংস্কারের আহ্বান গোবিন্দদেব গিরিজি মহারাজের
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অযোধ্যার রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের অন্যতম প্রধান গোবিন্দদেব গিরিজি মহারাজ। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, যেকোনো রাজ্যের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হলো শিক্ষা। অতীত সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে যে গলদ ঢুকেছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও আধুনিকীকরণ করা।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির এই বদল নিয়ে এখন গোটা রাজ্যের নজর মুখ্যমন্ত্রীর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।