উন্নত দেশকেও টেক্কা! বিশ্ববাজারে গ্যাসের দামের আগুন, তবুও ভারতে রান্নার গ্যাস কেন সস্তা?

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ভারতের সাধারণ পরিবারগুলি প্রতিবেশী দেশ এবং উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক কম দামে রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন। রবিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি-র দাম লাগামহীনভাবে বাড়লেও সরকার সাধারণ মানুষের ওপর সেই বোঝা পুরোপুরি চাপায়নি।
মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে বিশ্ব পরিস্থিতি
পশ্চিম এশিয়ার সংকটের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস (CP) যা ছিল প্রতি টনে ৫৪৩ ডলার, জুন মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯০ ডলারে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম প্রায় ৪৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে একটি ১৪.২ কেজি সিলিন্ডার সরবরাহ করার খরচ বর্তমানে ১৬০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
ভারত বনাম বিশ্ব: গ্যাসের দামের তুলনা
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সাধারণ মানুষ বাজারের আসল খরচের চেয়ে প্রায় ৭০০ টাকা কম দামে সিলিন্ডার পাচ্ছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে ভারতের সাশ্রয়ী অবস্থা স্পষ্ট:
| দেশ | গ্যাসের দাম (প্রায়) |
| ভারত (উজ্জ্বলা গ্রাহক) | ৬৪২ টাকা |
| পাকিস্তান | ১০৪৬ টাকা |
| নেপাল | ১২০৭ টাকা |
| বাংলাদেশ | ১২২৫ টাকা |
| শ্রীলঙ্কা | ১২৪১ টাকা |
| আমেরিকা | ১৭৫৫ টাকা |
| অস্ট্রেলিয়া | ১৭৬৫ টাকা |
| কানাডা | ২৪১১ টাকা |
উজ্জ্বলা যোজনা ও ভর্তুকি ব্যবস্থা
সাধারণ গ্রাহকরা ৯৪২ টাকায় সিলিন্ডার পেলেও, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার (PMUY) গ্রাহকরা প্রথম চারটি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকি পান। এর ফলে তাঁদের কার্যকরী খরচ দাঁড়ায় মাত্র ৬৪২ টাকা। মন্ত্রকের দাবি, প্রতিটি সিলিন্ডারে সরকার কয়েকশো টাকার লোকসান বা ‘আন্ডার-রিকভারি’ নিজে বহন করছে।
সরবরাহ বজায় রাখতে ভারতের বিশেষ পদক্ষেপ
হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের ৫৪% এলপিজি আসে। সংকটকালে এই পথ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ভারত সফলভাবে জ্বালানি সরবরাহ চালু রেখেছে। পাশাপাশি, সরবরাহ নিশ্চিত করতে:
-
দেশীয় এলপিজি উৎপাদন ৩২ টিএমটি থেকে বাড়িয়ে ৫২ টিএমটি করা হয়েছে।
-
আমেরিকা, কানাডা এবং আলজেরিয়ার মতো দেশগুলো থেকে গ্যাস আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে।
-
ভর্তুকির অপব্যবহার আটকাতে ৯০ শতাংশ ওটিপি-ভিত্তিক ডেলিভারি ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রক সাধারণ মানুষকে এই মূল্যবান সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে। সরকার যে ভর্তুকি ও আন্ডার-রিকভারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করছে, তা এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।