তৃণমূলের অন্দরে ‘বিসর্জন’ পর্ব? পূর্ব মেদিনীপুরে পদত্যাগপত্রের হিড়িক!

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের এক মাস কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন যেন থামছে না। শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে এবার বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তম বারিক। একইসঙ্গে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুহাসিনী করও।

কেন এই ইস্তফা?
চণ্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক তথা এবারের নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী উত্তম বারিক ইস্তফা দেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, “পদের অমর্যাদা করা ঠিক নয়। মানুষ এখন যা চাইছেন, তার নিরিখেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” এই পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

একের পর এক পদত্যাগ, কোণঠাসা তৃণমূল:
গত ৪ঠা মে-র পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের পদাধিকারীদের ইস্তফা দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে। এর আগে হলদিয়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পার্থ বটব্যাল, ময়না পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শাহজাহান আলি এবং পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী পম্পা সাঁতরা রাউত নিজেদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। জেলাজুড়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পুরসভার অন্দরেও টালমাটাল:
শুধুমাত্র জেলা পরিষদ বা পঞ্চায়েত সমিতি নয়, রাজ্যের নয়টি পুরসভা মিলিয়ে প্রায় দেড়শো জন তৃণমূল কাউন্সিলর ইতিমধ্যে ইস্তফা দিয়েছেন। এর মধ্যে ভাটপাড়া, হালিশহর, কাঁচরাপাড়া, গারুলিয়া, উত্তর ব্যারাকপুর, ডায়মন্ড হারবার, কাঁথি, দুবরাজপুর এবং চন্দননগরের মতো পুরসভাগুলোর নাম রয়েছে। কাঁথি পুরসভায় ইতিমধ্যেই ১২ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন, যা জেলার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে।

কী বলছে বিজেপি?
তৃণমূলের এই টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তৃণমূলের বিসর্জন শুরু হয়ে গেছে। নিজেদের সম্পত্তি বাঁচাতে এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অনেকেই দল ছাড়ছেন। কাউকে কিছু করতে হচ্ছে না, নিজেরাই নিজেদের মতো সরে যাচ্ছে।”

একদিকে পরাজয়ের গ্লানি, অন্যদিকে ক্রমাগত জনপ্রতিনিধিদের দলত্যাগ—এই জোড়া সংকটে তৃণমূলের স্থানীয় সংগঠন কতটা টিকে থাকতে পারে, সেটাই এখন দেখার বড় চ্যালেঞ্জ।