বিমানের জ্বালানির দামে বড় বদল: এবার কি তবে আকাশপথের সফর হবে আরও সস্তা?

আকাশপথে ভ্রমণ এখন সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আনতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা বিমানের জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘ATF প্রাইস স্টেবিলাইজেশন ফান্ড’ নামে একটি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। একইসঙ্গে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে (OMCs) ১০,০০০ কোটি টাকার এককালীন বাজেট সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন জ্বালানি নীতি ও দামের কাঠামো: অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের ডিরেক্টর রোহিত রাজ জানিয়েছেন, অতীতে জ্বালানির দামে যে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গিয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই নতুন কাঠামো। আগের সর্বোচ্চ মূল্যসীমার (Price Cap) ব্যবস্থা থেকে সরে এসে এবার সরকার একটি নির্দিষ্ট দামের নীতি গ্রহণ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
-
অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জ্বালানি: প্রতি লিটার ৮৬.৩২ টাকা।
-
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জ্বালানি: প্রতি লিটার ১০৪.৪৯ টাকা।
ভাড়া কমবে কি? বিমান সংস্থাগুলির মোট খরচের প্রায় ৪০% থেকে ৬০% পর্যন্ত খরচ হয় জ্বালানির জন্য। জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি পড়ে টিকিটের ওপর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ১০,০০০ কোটি টাকার এই সরকারি সহায়তার লক্ষ্যই হলো জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা, যাতে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা না চাপে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিমান সংস্থাগুলো তাদের টিকিটের দামে কিছুটা ছাড় দেওয়ার সুযোগ পাবে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
প্রেক্ষাপট: চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিমানের জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ৬০.৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৪২ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। এই অস্থিরতা কাটাতে এবং বিমান পরিবহন শিল্পকে সচল রাখতে সরকার এই জরুরি বাজেট সহায়তার পথে হেঁটেছে।