‘শিল্পের নামে ইন্ডাস্ট্রিকে কলুষিত করেছেন স্বরূপ বিশ্বাস!’ বিস্ফোরক রুদ্রনীল ঘোষ

 স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার এই ইস্যুতে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস এবং অরূপ-স্বরূপ বিশ্বাস জুটিকে আক্রমণ করলেন শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রশাসনিক প্রশ্রয় পেয়েই এক সময় রাজ্যে আইনের শাসনকে দুর্বল করা হয়েছিল।

ইন্ডাস্ট্রি কি সত্যিই ধ্বংসের মুখে? শুক্রবার হাওড়ার ডুমুরজলা ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রুদ্রনীল ঘোষ বাংলার চলচ্চিত্র জগতের করুণ দশা নিয়ে সরব হন। তিনি অভিযোগ করেন, এক সময়ের গর্বের টলিউড ইন্ডাস্ট্রি এখন ধুঁকছে। তাঁর কথায়, “আগে যেখানে বছরে ১০০টি সিনেমা তৈরি হতো, সেখানে এখন তা কমে ৩০-এ দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ৭০ শতাংশ সিনেমা কমেছে। এর ফলে বহু শিল্পী, কলাকুশলী এবং প্রযুক্তিবিদ কাজ হারিয়ে পথে বসেছেন।”

‘দুষ্কৃতী’ মন্তব্যে বিতর্ক: স্বরূপ বিশ্বাসকে সরাসরি ‘সংস্কৃতি জগতের দুষ্কৃতী’ বলে আখ্যা দিয়ে রুদ্রনীল বলেন, “প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং স্বরূপ বিশ্বাস মিলে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে নষ্ট করে দিয়েছেন। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক এবং উত্তম কুমারের মতো কিংবদন্তিদের গড়া এই গৌরবান্বিত ঐতিহ্যকে তারা কলুষিত করেছেন।”

আইনের পথে তদন্ত: রুদ্রনীল ঘোষের মতে, স্বরূপ বিশ্বাসের এই গ্রেফতারি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এবং অভিযোগের ভিত্তিতেই আইন নিজের পথে চলেছে। তাঁর দাবি, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যারা এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন, বর্তমান সরকারের আমলে তাদের সবারই যথাযোগ্য পরিণতি হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পরিবেশ দিবসের মঞ্চকে হাতিয়ার করে রুদ্রনীল কার্যত রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাংস্কৃতিক সংকোচনের ইস্যুটিকে এক সুতোয় গেঁথেছেন। দুর্নীতির অভিযোগ এবং শিল্পীদের কর্মসংস্থান—এই দুই অস্ত্র ব্যবহার করে তিনি প্রাক্তন শাসকদলের বিরুদ্ধে যে সুর চড়িয়েছেন, তা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক তরজার ইঙ্গিত দিচ্ছে।