হাতে বাড়ছে ক্ষমতা! এবার দ্রুত অস্ত্র কিনবে সেনাবাহিনী, বড় সিদ্ধান্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও গতিশীল এবং আধুনিক করে তোলার লক্ষ্যে বড় ধরনের সংস্কার করল কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ফিল্ড কমান্ডারদের আর্থিক ক্ষমতা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে জরুরি প্রয়োজনে সরঞ্জাম ও পরিষেবা সংগ্রহ আরও দ্রুততর হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এই পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছেন, যা আগামী দিনে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন এই পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল?
দীর্ঘদিন ধরে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ফিল্ড লেভেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি তোলা হচ্ছিল। প্রায় পাঁচ বছর পর এই আর্থিক ক্ষমতার পুনর্বিবেচনা করা হলো। সরকারের লক্ষ্য হলো—ক্রয় প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য সবসময় প্রস্তুত রাখা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে চলতি অর্থ বছরে প্রায় ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকার ক্রয় প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হবে।

নতুন আর্থিক ক্ষমতার কাঠামো
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন স্তরে আর্থিক সীমার ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে:

সেনা কমান্ডার ও সমতুল্য কর্মকর্তা: সরঞ্জাম ক্রয়ের সীমা ৩০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

সার্ভিস চিফ (সেবা প্রধান): এই সীমা ৭৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশীয় উৎপাদন ও যৌথ ক্রয়কে গুরুত্ব
এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য শুধু দ্রুত কেনাকাটা নয়, বরং ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে উৎসাহিত করা।

আমদানি নির্ভরতা হ্রাস: মন্ত্রণালয় দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D)-এর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।

যৌথ ক্রয় ব্যবস্থা: তিনটি বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) মধ্যে যৌথ ক্রয় ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে সম্পদের অপচয় কমে এবং ক্রয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি: ড্রোন, ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি সংগ্রহের প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত হবে।

সংস্কারের প্রভাব
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপের ফলে মাঠ পর্যায়ে সামরিক কমান্ডাররা আরও স্বাধীনভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এটি কেবল যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য নয়, বরং প্রতিরক্ষা খাতে ভারতের স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করতে সাহায্য করবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার এই সিদ্ধান্ত ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।