‘ওটা আমার সই নয়!’ ব্যাঙ্কশাল কোর্টে দাঁড়িয়ে সিআইডি-র নথি উড়িয়ে দিলেন অরূপ রায়

বিধানসভার সই-বিতর্ককে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির হলেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক অরূপ রায়। হাতের লেখা ও স্বাক্ষর যাচাইয়ের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁকে আদালতে তলব করা হয়েছিল। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে নিজের স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এই বর্ষীয়ান বিধায়ক।

‘সই আমার নয়’, স্পষ্ট বার্তা অরূপের সিআইডির তলবে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির হন অরূপ রায়। আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি তাঁকে যে স্বাক্ষরটি দেখিয়েছে, তা আদৌ তাঁর নয়। অরূপ রায়ের কথায়, “তদন্তের প্রয়োজনে সিআইডি আমাকে ডেকেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে আমি সই করেছিলাম, তা সত্য। কিন্তু সিআইডি আমার সই বলে আমাকে যে নথিটি দেখিয়েছে, সেটি আমার নয়।” বিধায়কের এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

তদন্তের নেপথ্যে কী? সূত্র অনুযায়ী, বিধানসভা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নথিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। জানা গিয়েছে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যেখানে একাধিক বিধায়কের সমর্থন ও স্বাক্ষর ছিল। পরবর্তীতে, গত ১৮ মে বিধানসভার প্রধান সচিব সংশ্লিষ্ট রেজোলিউশনের কপি পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই নথিতে মোট ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর ছিল বলে দাবি করা হয়। কিন্তু তালিকাটি যাচাই করার সময় দেখা যায়, ১০ জন বিধায়কের নাম বড় হাতের ইংরেজি অক্ষরে লেখা রয়েছে এবং বেশ কিছু স্বাক্ষরের সঙ্গে আসল স্বাক্ষরের বিস্তর ফারাক রয়েছে। এই অসংগতি দেখেই তদন্তে নামে সিআইডি।

আদালতের নির্দেশে হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ তদন্তের স্বার্থে সিআইডি আদালতের দ্বারস্থ হলে, আদালত ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বিধায়কদের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই বৃহস্পতিবার অরূপ রায় ছাড়াও বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, সমর মুখোপাধ্যায় এবং শুভাশিস দাসকে তলব করা হয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নেওয়া এই নমুনাগুলি এখন ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফরেন্সিক রিপোর্টই নির্ধারণ করবে সই-জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা। অরূপ রায়ের এই দাবি তদন্তকে আরও নতুন দিকে মোড় দিল কি না, সেদিকেই তাকিয়ে এখন রাজনৈতিক মহল।