স্মার্টফোনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ৫টি গোপন টুল!, জেনেনিন কী কী?

আজকের দিনে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে অনেকেই এই শক্তিশালী ডিভাইসটিকে কেবল কল করা, মেসেজিং, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যম হিসেবেই দেখেন। কিন্তু আপনি কি জানেন? আধুনিক স্মার্টফোনে এমন কিছু শক্তিশালী সেন্সর বসানো থাকে, যা আপনার ফোনটিকে আস্ত একটি পকেট-সাইজ বহুমুখী ‘টুলবক্সে’ পরিণত করেছে।
আলাদা কোনো দামি যন্ত্র কেনা ছাড়াই, স্রেফ কিছু থার্ড-পার্টি অ্যাপ বা ইন-বিল্ট ফিচারের সাহায্যে দৈনন্দিন জীবনের অন্তত ৬টি কঠিন কাজ আপনি এক তুড়িতে করে ফেলতে পারেন। দেখে নিন কীভাবে:
১. দেওয়ালের ছবি বাঁকা না সোজা? মাপবে ফোনের ‘স্পিরিট লেভেল’
স্মার্টফোনে থাকা ‘অ্যাক্সিলেরোমিটার’ (Accelerometer) এবং ‘জাইরোস্কোপ’ (Gyroscope) সেন্সর মূলত ফোনের নড়াচড়া ও কোণ নির্ণয় করে। এই প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে আপনার ফোনটিকে একটি ডিজিটাল ‘স্পিরিট লেভেল’ (Spirit Level) হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের দেওয়ালে কোনো ছবি বা ঘড়ি সোজা করে ঝোলানো, নতুন আসবাবপত্র সমানভাবে বসানো কিংবা যেকোনো সমতলের ভারসাম্য পরীক্ষা করা এখন নিখুঁতভাবে সম্ভব।
২. চারপাশের শব্দ কতটা তীব্র? মেপে দেবে আপনার ফোন
ফোনের ভেতরের মাইক্রোফোনটি কেবল কথা বলা বা ভয়েস রেকর্ডের জন্যই নয়, এটি চারপাশের শব্দের তীব্রতা (Decibel) বিশ্লেষণ করতেও ওস্তাদ। বিভিন্ন ‘সাউন্ড মিটার’ অ্যাপের সাহায্যে আপনি খুব সহজেই বুঝে নিতে পারবেন আপনার চারপাশের শব্দদূষণের মাত্রা ঠিক কতটা, কিংবা আপনার ঘরের পরিবেশটি পড়াশোনা বা মনোযোগ দিয়ে কাজ করার জন্য উপযুক্ত কি না।
৩. দিক নির্ণয় ও লুকানো ধাতু শনাক্তকরণ (Metal Detection)
স্মার্টফোনের ‘ম্যাগনেটোমিটার’ (Magnetometer) সেন্সরটি মূলত কম্পাসের মতো কাজ করে নিখুঁত দিক নির্দেশ করে, যা অচেনা জায়গায় ট্রাভেল করার সময় দারুণ কাজে দেয়। তবে এর আরেকটি চমকপ্রদ ব্যবহার রয়েছে; এই সেন্সরটি অনেক সময় মেটাল ডিটেক্টর হিসেবেও কাজ করে। ফলে দেওয়ালের ভেতরে লুকিয়ে থাকা লোহার পাইপ, নাট-বল্টু বা বৈদ্যুতিক তারের অবস্থানও এটি শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
৪. পাহাড়ে ট্রেকিং করছেন? উচ্চতা ও বায়ুচাপ জানাবে ব্যারোমিটার
যেসব স্মার্টফোনে ‘ব্যারোমিটার’ (Barometer) সেন্সর থাকে, সেগুলো চারপাশের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করতে পারে। এই ডেটা ব্যবহার করে আপনি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ঠিক কত উঁচুতে আছেন, তা সহজেই অনুমান করা সম্ভব। বিশেষ করে যাঁরা পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন বা ট্রেকিং করেন, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত জীবনদায়ী একটি ফিচার।
৫. ঘরের আলো গাছের জন্য পারফেক্ট তো? বলবে লাইট সেন্সর
ফোনে থাকা ‘প্রকজিমিটি সেন্সর’ কলের সময় স্ক্রিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখে, আর ‘অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর’ চারপাশের আলোর ওপর ভিত্তি করে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস নিয়ন্ত্রণ করে। এই দুই সেন্সরের রিডিং কাজে লাগিয়ে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ঘরের বা অফিসের আলো ইনডোর প্ল্যান্ট (Indoor Plants) কিংবা অন্যান্য সংবেদনশীল জিনিস রাখার জন্য কতটা উপযুক্ত।
৬. টেপ ছাড়াই নির্ভুল মাপজোক! প্রিমিয়াম ফোনের ‘লিডার’ (LiDAR) ম্যাজিক
বর্তমান যুগের কিছু প্রিমিয়াম এবং ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনে দেওয়া হচ্ছে অ্যাডভান্সড ‘লিডার স্ক্যানার’ (LiDAR) প্রযুক্তি। এটি পরিবেশের গভীরতা ও দূরত্ব লেজার রশ্মির মাধ্যমে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিমাপ করে। এর ফলে কোনো ফিজিক্যাল মেজারিং টেপ ছাড়াই স্রেফ ফোনের ক্যামেরা তাক করে ঘরের আয়তন, কোনো বস্তুর দৈর্ঘ্য বা কোনো মানুষের উচ্চতা মেপে ফেলা যায়। এমনকি এর মাধ্যমে যেকোনো বাস্তব জিনিসের চমৎকার থ্রিডি (3D) ডিজিটাল মডেলও তৈরি করা সম্ভব।