১০ বছরের ছোট জামাইয়ের প্রেমে অন্ধ মা! আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলতেই নিজের নাবালিকা মেয়েকে খুন!

“আমি আমার মেয়ে সাজিদাকে কতবার বুঝিয়েছি। বলেছিলাম সবকিছু যেমন চলছে তেমনই চলতে দিতে। আমার প্রেমিক তথা জামাই ওর স্বামী হয়ে থাকবে, ওর যত্ন নেবে, টাকাও দেবে। ও শুধু চুপ করে থাকুক আর আমাদের সম্পর্কে নাক না গলাক। কিন্তু ও শোনেনি। ও ওর বাবাকে সব বলে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল। তাই আমাদের ওকে পথ থেকে সরাতে হয়েছিল, আর আমরা ওকে মেরেই ফেললাম।”

কোনো ক্রাইম থ্রিলার বা সিনেমার চিত্রনাট্য নয়, নিজের ১৭ বছর বয়সী নাবালিকা মেয়েকে খুনের অভিযোগে বিহারের আরারিয়া থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মা শাইস্তা পারভীনের মুখ থেকে বের হওয়া এই স্বীকারোক্তিতে খোদ পুলিশ প্রশাসনেরও রক্ত জল হওয়ার জোগাড়। ১০ বছরের ছোট জামাইয়ের প্রেমে কামাসক্ত হয়ে নিজের গর্ভজাত সন্তানের জীবনের বিনিময়ে অপরাধের অন্ধকার দুনিয়ায় নিজেকে সঁপে দিলেন এক মা।

১০ বছরের সুখী সংসার ও ফেসবুক প্রেমের এন্ট্রি
পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে শাইস্তা পারভীন জানায়, ২০০৯ সালে মোহাম্মদ মুদাশিরের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। ২০১০ সালে তাদের কোলে আসে কন্যাসন্তান সাজিদা পারভীন। বিয়ের পর দীর্ঘ ১০ বছর সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু পেশাগত কারণে মুদাশিরকে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। স্বামীর এই দূরত্বের কারণে একাকীত্ব গ্রাস করে শাইস্তাকে। সেই একাকীত্ব দূর করতে সে বোনের শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত শুরু করে এবং সেখানে আলাপ হয় বোনের দেবর, পেশায় মাদ্রাসা শিক্ষক আব্বু নাসরের সাথে।

২০১৯ সালের নভেম্বর নাগাদ ফেসবুক মেসেজের মাধ্যমে তাদের সাধারণ কথাবার্তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়। রাতভর ফোনে কথা বলা থেকে শুরু করে গোপনে দেখাসাক্ষাৎ— অবাধে চলতে থাকে শাশুড়ি-দেওরের এই পরকীয়া।

পরকীয়া ঢাকতে নাবালিকা মেয়ের সাথে প্রেমিকের বিয়ে!
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই অবৈধ সম্পর্ক এক ভয়ঙ্কর মোড় নেয়। আব্বু নাসরের মা শাইস্তার মেয়ে সাজিদার সাথে আব্বুর বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রথমে শাইস্তা এতে রাজি না হলেও প্রেমিক আব্বু নাসর তাকে এক জঘন্য ব্লু-প্রিন্ট বোঝায়। আব্বু বলে, সাজিদাকে বিয়ে করলে সে আইনত জামাই হিসেবে ওই বাড়িতে চব্বিশ ঘণ্টা যাতায়াত করতে পারবে এবং সমাজ তাদের এই অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

শাইস্তার স্বামী মুদাশির এবং মেয়ে সাজিদা এই অসম ও অনৈতিক বিয়ের তীব্র বিরোধিতা করলেও শাইস্তার জেদের কাছে হার মানতে হয়। অবশেষে, ২০২৬ সালের ১১ই এপ্রিল নাবালিকা সাজিদার সাথে বিয়ে দেওয়া হয় আব্বু নাসরের।

বন্ধ ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় মা ও স্বামী, তারপর…
বিয়ের পর সাজিদা ও আব্বু আলাদা থাকতে শুরু করলে শাইস্তা মেয়ের বাড়ি যাওয়ার বাহানায় সপ্তাহে তিনবার জামাই তথা প্রেমিকের শয্যাসঙ্গী হতে ছোটেন। কিন্তু পাপ কখনো চাপা থাকে না। একদিন হঠাতই সাজিদা তার নিজের বন্ধ ঘরের ভেতরে মা শাইস্তা এবং স্বামী আব্বু নাসারকে চরম আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে।

এই ঘটনায় বাড়িতে তুমুল অশান্তি শুরু হয়। সাজিদা কাঁদতে কাঁদতে তার মাকে বলেছিল, “আমার এখন বিয়ে হয়ে গেছে, এটা আমার জীবনের ব্যাপার। তুমি আমার স্বামীর থেকে দূরে থাকো।” সাজিদা যখন এই ব্যভিচারের কথা তার বাবা মুদাশিরকে সব বলে দেওয়ার হুমকি দেয়, তখনই শাইস্তা ও আব্বু নাসর তাকে চিরদিনের মতো স্তব্ধ করে দেওয়ার ছক কষে।

অসুস্থতার ভান, মাঝরাতে বাইকে নিয়ে গিয়ে খুন ও তড়িঘড়ি কবর দেওয়ার চেষ্টা
সাজিদার বাবা মুদাশিরের বয়ান অনুযায়ী, গত ১লা মে রাতে শাইস্তা ভান করে যে সাজিদা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এরপর অচেতন সাজিদাকে মোটরবাইকের মাঝখানে বসিয়ে পেছনে নিজে বসে জামাই আব্বুর সাথে রওনা দেয়। নিজেদের ডেরায় নিয়ে গিয়ে সাজিদাকে নির্মমভাবে মারধর ও শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।

অপরাধ ঢাকতে পরদিন সকালে সাজিদার নিথর দেহ মুদাশিরের বাড়িতে এনে শাইস্তা দাবি করে, মেয়ে ঘুমোচ্ছে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎই সাজিদার মৃত্যুর নাটক করে তারা। শাইস্তা ও আব্বু এতটাই তাড়াহুড়ো করছিল যে, পাড়ার কাউকে কিছু না জানিয়ে তড়িঘড়ি দেহটি মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু মেয়ের আচমকা মৃত্যু এবং স্ত্রীর অতি-সক্রিয়তায় বাবা মুদাশিরের সন্দেহ হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে আরারিয়া আরএস থানায় খবর দেন।

হাজতে শাশুড়ি ও জামাই
আরারিয়া আরএস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অঙ্কুর কুমার জানিয়েছেন, খবর পেয়েই পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তড়িৎ গতিতে পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ ঘাতক মা শায়েস্তা পারভীন এবং জামাই আব্বু নাসারকে গ্রেপ্তার করেছে। জেরার মুখে দুজনেই নিজেদের পৈশাচিক অপরাধ স্বীকার করেছে। এই মুহূর্তে দুই লম্পট প্রেমিক-প্রেমিকাকে জেল হেফাজতে পাঠিয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পুলিশ।