জেলবন্দি ‘আসামী ১৭৮২’! বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে এখন গারদে সমর্থ, অভিনেত্রী ত্বিশা খুনের নেপথ্যে কোন গভীর রহস্য?

দেশের বিনোদন ও আইনি জগৎকে নাড়িয়ে দেওয়া ভোপালের মডেল তথা অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যু মামলাটি প্রতিদিন এক নতুন রূপ নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) যখন এই হাই-প্রোফাইল মামলার সত্য উদঘাটনে দিনরাত এক করছে, ঠিক তখনই এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত সমর্থ সিংয়ের জেলজীবনের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। একসময়ের হাই-সোসাইটি ও বিলাসবহুল জীবন কাটানো সমর্থ সিংয়ের বর্তমান ঠিকানা এখন ভোপাল সেন্ট্রাল জেল, যেখানে নথির পাতায় তাঁর পরিচয় কেবলই “বন্দী নং ১৭৮২”।

পায়ে আঘাত নিয়ে মেডিকেল ওয়ার্ডে কড়া পাহারা, সঙ্গী শুধুই বই!
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, পায়ে গুরুতর আঘাত থাকার কারণে সমর্থ সিংকে বর্তমানে সাধারণ সেলের বদলে জেলের মেডিকেল ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সেখানে তাঁর ওপর চব্বিশ ঘণ্টা কড়া নিরাপত্তা বলয় বজায় রেখেছে কারা প্রশাসন। অন্যান্য বিচারাধীন বন্দীদের মতোই তাঁকে সাধারণ খাবার ও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তবে এই বন্দিদশার মধ্যে যা সবচেয়ে বেশি জেলের কর্মীদের নজর কেড়েছে, তা হলো বইয়ের প্রতি সমর্থের তীব্র আসক্তি। কারাগারের একাকীত্ব আর মানসিক চাপ থেকে বাঁচতে তিনি অনবরত ডুবে থাকছেন জটিল মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের পাতায়।

কারাগারে বসে ‘গর্ভবতী রাজা’ ও জাপানি ক্রাইম থ্রিলারে মগ্ন অভিযুক্ত!
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমর্থ বর্তমানে বিশিষ্ট লেখক দেবদত্ত পট্টনায়কের সাড়া জাগানো উপন্যাস ‘দ্য প্রেগন্যান্ট কিং’ (The Pregnant King) পড়ছেন। মহাভারতের একটি বিশেষ অধ্যায় অবলম্বনে ইক্ষ্বাকু বংশের রাজা যুবানশ্বের এই গল্পে দেখানো হয়েছে কীভাবে ভুলবশত সন্তান ধারণের পবিত্র জল পান করে রাজা নিজে গর্ভবতী হয়ে পড়েন। উপন্যাসটি মূলত পরিচয়, লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা এবং সামাজিক রীতিনীতির মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে ফুটিয়ে তোলে, যা কোনো সাধারণ অপরাধীর মনস্তত্ত্বের সাথে মিলে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এর চেয়েও বড় চমকপ্রদ বিষয় হলো, সিবিআই রিমান্ডে থাকার সময় এবং গ্রেফতারির ঠিক আগের মুহূর্তেও সমর্থের কাছে পাওয়া গিয়েছিল জাপানি লেখিকা আসাকো ইউজুকির বিখ্যাত ক্রাইম থ্রিলার ‘বাটার’ (Butter)। এই বইটি টোকিওর এক রহস্যময়ী নারী মানজাকো কাজির সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা, যে ধনী পুরুষদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে, তাঁদের থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে খুন করত।

বাস্তব থেকে পলায়ন নাকি নতুন কোনো ছক? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
একসময়ের প্রভাবশালী প্রাক্তন বিচারপতি গিরিবালা সিং এবং তাঁর ছেলে সমর্থ সিং— মা ও ছেলে দুজনেই আজ আভিজাত্যের সিংহাসন ছেড়ে কয়েদির পোশাকে বন্দি। গিরিবালা সিং রয়েছেন মহিলা ব্যারাকে আর ছেলে সমর্থ রয়েছেন মেডিকেল ওয়ার্ডে।

আচরণ বিজ্ঞানী এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিবিআই-এর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতের চক্কর যেকোনো হাই-প্রোফাইল অপরাধীর মাথায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরণের জটিল ক্রাইম থ্রিলার বা পৌরাণিক মনস্তাত্ত্বিক বই পড়া আসলে নিজের অপরাধবোধ বা পরিস্থিতিকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা হতে পারে, অথবা সাময়িকভাবে কঠোর বাস্তব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার কোনো কৌশল। তবে সমর্থের হাতের এই বইগুলো যে ত্বিশা শর্মা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এক নতুন মনস্তাত্ত্বিক মাত্রা যোগ করেছে, তা বলাই বাহুল্য।