১৫ লক্ষ কোটির জালিয়াতি! জুয়েলারি কোম্পানির শেয়ারে বড় ধস, সেবির কড়া পদক্ষেপ

শেয়ার বাজারে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজেশ এক্সপোর্টস। নিয়ন্ত্রক সংস্থা SEBI-র এক বিস্ফোরক অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সংস্থার শেয়ারের দাম ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে। সংস্থার আর্থিক বিবরণীতে প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব (Revenue) ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সেবি।

সেবির অভিযোগের মূল বিষয়গুলি:

  • ভয়ংকর গরমিল: ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে সংস্থার মোট রাজস্বের প্রায় ৯৭% থেকে ৯৯% অংশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সেবি। সংস্থার কনসলিডেটেড আর্থিক বিবরণীতে দেখানো বিশাল এই রাজস্বের স্বপক্ষে কোনো যথাযথ নথি বা তথ্য তারা পায়নি।

  • বিদেশের ভুতুড়ে ব্যবসা: সেবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোম্পানির মোট আয়ের প্রায় ৯৯.৮% অংশই এসেছে বিদেশি সহযোগী সংস্থাগুলি থেকে। কিন্তু তদন্তে নেমে সেবি এই লেনদেনগুলির কোনো বাস্তব ভিত্তি খুঁজে পায়নি।

  • অসহযোগিতা: তদন্তের স্বার্থে যখন কোম্পানির কাছে নথি ও তথ্য চাওয়া হয়, তখন তারা তা দিতে টালবাহানা করেছে বলে সেবির অভিযোগ। ফরেন্সিক অডিট চলাকালীনও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।

বড় শাস্তির মুখে প্রোমোটার: এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেবি কড়া অবস্থান নিয়েছে। সংস্থার চেয়ারম্যান ও প্রোমোটার রাজেশ মেহতা-কে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিকিউরিটিজ মার্কেটে লেনদেন করা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, সংস্থার পুরো হিসাবপত্র খতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে ফরেন্সিক অডিটের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

কোম্পানির প্রতিক্রিয়া: অভিযোগের মুখে পড়ে রাজেশ এক্সপোর্টস-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সেবির এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত নয়। সংস্থা তাদের বিস্তারিত জবাব তৈরি করছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগ: বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কর্পোরেট গভর্নেন্সের ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ঘটনা। বিপুল অঙ্কের রাজস্ব নিয়ে এই ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ সরাসরি কোম্পানির স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততাকে কাঠগড়ায় তুলেছে। সাধারণ লগ্নিকারীরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। তবে আগামী দিনে ফরেন্সিক অডিটের ফলাফল এবং সেবির পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।