বকেয়া বেতন, নেই কোনো নোটিশ! আচমকা অফিস সিল হতেই ফাঁস হলো ৭০০ কর্মীর চরম বিপদ

পুণের তথ্যপ্রযুক্তি হাব হিনজেওয়াড়িতে এক ভয়াবহ প্রতারণার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। কোনো রকম আগাম বার্তা ছাড়াই রাতারাতি দপ্তর গুটিয়ে নিল ‘থিঙ্ক টেক ইন্ডিয়া ওপিসি প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের এক বেসরকারি সংস্থা। এই ঘটনায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ৭০০-রও বেশি কর্মী ও ইন্টার্ন। প্রতারিতদের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে সংস্থার সিইও হর্ষল ঠাকরেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কীভাবে ফাঁস হলো জালিয়াতি?
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২২ এপ্রিল সকালে কর্মীরা অফিসে এসে দেখেন মূল দরজায় তালা ঝুলছে। বকেয়া ঘরভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ না মেটানোয় বাড়ির মালিক নিজেই অফিসটি সিল করে নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সংস্থাটি নয়ডায় নিবন্ধিত হলেও পুণের এই শাখায় মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বহু ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েটকে নিয়োগ করা হয়েছিল।
প্রতারণার শিকার কর্মীরা:
বঞ্চিত কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য:
বেতন বাকি: বহু কর্মীর অন্তত এক থেকে তিন মাসের বেতন বা স্টাইপেন্ড বকেয়া রয়েছে।
ল্যাপটপের নামে তোলাবাজি: কর্মীদের ল্যাপটপ দেওয়ার নাম করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফাঁকা প্রতিশ্রুতি: চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই বেতন দেওয়া বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি। বকেয়া টাকার জন্য কর্মীরা বারবার অনুরোধ করলেও কর্তৃপক্ষ কেবল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল।
পুলিশি পদক্ষেপ ও আইটি সংগঠনের ভূমিকা:
এই বিষয়ে ‘ফোরাম ফর আইটি এমপ্লয়িজ’-এর প্রধান পবনজিৎ মানে জানান, নামী কলেজের ক্যাম্পাসিং তালিকার সুযোগ নিয়েই এই সংস্থাটি পড়ুয়াদের ফাঁদে ফেলেছিল। গত ২৫ বছর বয়সী এক ইন্টার্ন তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রথম মামলা দায়ের হয়, যার ভিত্তিতে সিইও হর্ষল ঠাকরেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিইও-র পাশাপাশি সংস্থার এক এইচআর ম্যানেজারও বর্তমানে পুলিশের স্ক্যানারে রয়েছেন।
ধৃত সিইও-র বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ এখন ওই সংস্থার ব্যাঙ্ক লেনদেন খতিয়ে দেখে প্রতারণার আসল বহর কত বড়, তা জানার চেষ্টা করছে।