‘সাপের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে’! ঋতব্রতকে নিয়ে বিস্ফোরক বাবুল সুপ্রিয়, মমতাকে তুলোধনা

তৃণমূলের অন্দরে ‘আদি’ বনাম ‘নব’ দ্বন্দ্বের আবহে এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। দলীয় শৃঙ্খলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি যেমন ঋতব্রতকে বিঁধেছেন, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও তুলেছেন কড়া প্রশ্ন।
ঋতব্রতকে কড়া বার্তা বাবুলের
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাবুল লেখেন, “নিজের দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অধিকার সবারই আছে। আমিও তা করেছি। কিন্তু সেই অবস্থানকে সম্মান জানাতে হলে সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত। কারণ, আপনি দলের প্রতীক ও ব্যানারের অধীনেই ভোটে জিতেছিলেন।” নাম না নিলেও, বাবুলের নিশানায় যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, তা স্পষ্ট। তিনি অভিযোগ করেন, দলের দুঃসময়ে ঋতব্রতর এই ‘বিদ্রোহ’ আসলে ব্যক্তিগত অভিসন্ধি ছাড়া আর কিছুই নয়।
মমতাকে দুষলেন বাবুল
এদিন বাবুল সুপ্রিয় মমতার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি লেখেন, “দিদি বড় ভুল করেছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যারা দুর্নীতি বা সরকারি অর্থ তছরুপে জড়িয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আজ তাদের অনেকেই দলের ‘৬০’-এর অংশ, কেউ জেলে, কেউ ভোটে হেরেছেন।”
‘সাপের ছদ্মবেশ’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি
সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যটি এসেছে ঋতব্রতর নাম না করে। বাবুল লেখেন, “একজন মানুষ আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে! কখনও ভাবিনি, আমাদের চারপাশে একটা ‘সাপ’ মানুষের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।” এরপরই তার হুঁশিয়ারি, “আশা করি, বিজেপি যেন অন্য অনেক রাজ্যের মতো তাদের দলে টেনে নেওয়ার মতো ভুল না করে।”
নিজের এই মন্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত মতামত’ হিসেবে উল্লেখ করে বাবুল সাফ জানান, রাজনীতি ও জীবন—উভয় ক্ষেত্রেই ‘যুদ্ধ ও ভালোবাসায় সবকিছুই ন্যায্য’। কিন্তু দলের প্রতীকে জিতে দলের বিরুদ্ধাচারণ করা নীতিবিরুদ্ধ বলেই তিনি মনে করেন।