ইতিহাসের বৃহত্তম ড্রোন চুক্তি! দেশীয় সংস্থা থেকে ২০ হাজার কোটির যুদ্ধাস্ত্র কিনছে ভারত

আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে যাচ্ছে দ্রুত। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এবার ভারতীয় প্রতিরক্ষা খাতে বড়সড় পরিবর্তনের পথে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশীয় সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি (প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের সামরিক ড্রোন কেনার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে ভারত। দেশের সামরিক ইতিহাসের এটিই হতে চলেছে বৃহত্তম ড্রোন সংগ্রহের প্রকল্প।

দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে প্রক্রিয়া
ড্রোন ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (DFI) সূত্রে খবর, এই বিশাল ক্রয় পরিকল্পনার কাজ ইতিমধ্যে জোরকদমে শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, সেনাবাহিনীর জরুরি চাহিদা মেটাতে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ বা জরুরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই ড্রোনগুলো সংগ্রহ করা হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যেই সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। সম্প্রতি ৩,০০০ কোটি টাকার কৌশলগত ড্রোনের অর্ডার দেওয়া হয়েছে, যা এই বৃহত্তর পরিকল্পনারই প্রথম ধাপ।

কেন এই বড় সিদ্ধান্ত?
সাম্প্রতিককালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল উত্তেজনার মতো ঘটনাবলী প্রমাণ করেছে, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন কতটা বিধ্বংসী হতে পারে। খুব কম খরচে তৈরি ড্রোনও যুদ্ধক্ষেত্রে বড় বড় লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। সেই পাঠ থেকেই ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন তাদের যুদ্ধ কৌশলে ড্রোনের অন্তর্ভুক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নজরদারি থেকে শুরু করে নিখুঁত আঘাত হানা কিংবা রসদ সরবরাহ—সবক্ষেত্রেই ড্রোন হবে সেনার ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ বা শক্তির বড় গুণক।

আত্মনির্ভর ভারতের জয়যাত্রা
প্রতিরক্ষা খাতে ভারতকে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে মোদী সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের হাত ধরে দেশে বিপ্লব এসেছে। বর্তমানে ভারতে ৬০০-র বেশি সংস্থা ড্রোন এবং এর যন্ত্রাংশ তৈরির কাজে যুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ১০০-র বেশি সরাসরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন করছে।

iDEX-এর মতো সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে স্টার্টআপ এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোকে বিশেষ আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ হাজার কোটির এই বিশাল বিনিয়োগ কেবল দেশের সুরক্ষাকেই মজবুত করবে না, বরং ভারতের বেসরকারি প্রতিরক্ষা শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।