মেয়র পদে ইস্তফা কি শুধুই নাটক? ফিরহাদকে ঘিরে মমতার সঙ্গে টানাপোড়েন তুঙ্গে

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা যখন চরমে, ঠিক তখনই কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। একদিকে বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করছেন ফিরহাদ ইস্তফা দিয়েছেন, অন্যদিকে ফিরহাদ নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে এই তথ্য অস্বীকার করেছেন। এই পরস্পরবিরোধী দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
ইস্তফা নাকি প্রেশার পলিটিক্স? বুধবার সন্ধ্যায় কুণাল ঘোষের দাবি ছিল, ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন এবং নেত্রী তাতে অনুমতিও দিয়েছেন। অথচ এর পরেই ফিরহাদ হাকিম দাবি করেন, তিনি পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই নেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে বর্তমান ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে এটি কোনো কৌশলগত পদক্ষেপ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
শুভেন্দুর বৈঠকেই কি অসন্তোষের শুরু? তৃণমূলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, যাবতীয় বিতর্কের সূত্রপাত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা একটি প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও ওই বৈঠকে হাজিরা দেন ফিরহাদ হাকিম। শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠকে ফিরহাদকে ‘মেয়র সাহেব’ বলে বিশেষ সম্মানের সঙ্গে সম্বোধন করেন এবং বিজেপির মন্ত্রীরা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন। এই ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর মনে হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
প্রশাসনিক বৈঠকের পর ফিরহাদ সরাসরি নবান্ন থেকে কলকাতা পুরনিগমে চলে যান, কালীঘাটের বাড়িতে নেত্রীর সঙ্গে দেখা না করায় অসন্তোষ আরও বাড়ে। মমতা ফোন করে বিষয়টি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বলেও জানা গেছে।
শোভনদেব কি পরবর্তী মেয়র? তৃণমূলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরহাদ হাকিমকে সরিয়ে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে কলকাতার মেয়র পদে বসাতে চাইছেন। তবে কাউন্সিলরদের একাংশ এই পরিবর্তনের তীব্র বিরোধী এবং তাঁরা পাল্টা প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
ফিরহাদ হাকিমের মতো ওজনদার নেতার মেয়র পদ ছাড়া মানে কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের আধিপত্যে বড় ধরনের ভাঙন। এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নিতে পারেন, নাকি কাউন্সিলরদের বিদ্রোহে সেই পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়। কলকাতার মেয়র পদকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত পুরসভার প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে কি না, তা নিয়েই এখন নগরবাসী উদ্বিগ্ন।