বাংলাদেশের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, মমতার বিরুদ্ধে FIR, নেপথ্যে জাতীয় নিরাপত্তা?

ক্ষমতার মসনদ হারানোর পর থেকেই যেন আইনি জট পিছু ছাড়ছে না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের হলো এফআইআর (FIR)। আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিং এই অভিযোগটি দায়ের করেছেন।
কী অভিযোগ? গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করেন। অভিযোগ, তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে উস্কানিমূলক কথা বলেছেন। অভিযোগকারীর দাবি:
-
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন।
-
তিনি দাবি করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সম্পর্কিত ‘গোপনীয় তথ্য’ তাঁর কাছে রয়েছে।
-
এই মন্তব্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে এবং সীমান্তের ওপারে বসবাসরত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
শুধু একটি নয়, জোড়া মামলা এই আইনি লড়াই কেবল আজকের নয়। এর আগেও আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ তুলে সাইবার ক্রাইম থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগপত্রে উল্লেখ ছিল: ১. ২০২৫ সালে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাঁর বিতর্কিত বক্তব্য। ২. ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে করা মন্তব্য।
অভিযোগকারীর মতে, এই মন্তব্যগুলি শুধু ভারতের অখণ্ডতা নয়, বরং বিশ্বের কোটি কোটি সনাতনী মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে গভীর আঘাত হেনেছে। সব মিলিয়ে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই একের পর এক মামলা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
তদন্তের পথে পুলিশ শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই এই অভিযোগগুলির তদন্ত শুরু করেছে। পদ থেকে সরে যাওয়ার পর দেশের নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরণের মন্তব্য ও তার উৎস নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তে পুলিশ শেষ পর্যন্ত কী তথ্য পায় এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আইনি লড়াইয়ের কতটা গভীরে যেতে হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।