টলিউডে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ অধ্যায়ের কি অবসান? শিল্পীদের নিয়ে বড় বৈঠকে পাপিয়া অধিকারী

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই যেন নতুন হাওয়া বইছে টলিপাড়ায়। এতদিন ধরে চলা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পরিবেশ এবং রাজনৈতিক দাপট থেকে মুক্তি পেতে মুখ খুলতে শুরু করেছেন টালিগঞ্জের শিল্পী ও কলাকুশলীরা। এই প্রেক্ষাপটেই টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের সমস্যা ও অভিযোগগুলো সরাসরি শোনার জন্য বিশেষ বৈঠকের ডাক দিলেন বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী।
কেন এই বৈঠকের প্রয়োজন?
তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন টলিপাড়ায় অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের (যাঁরা ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ নামে পরিচিত) একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। অভিযোগ, শিল্পী থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ান—সকলকেই রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সভার বাধ্যবাধকতায় আটকে রাখা হতো। বাণিজ্যিক ছবি মুক্তি বা নন্দনে শো পাওয়ার ক্ষেত্রেও ফেডারেশনের অনুমোদনের যে অলিখিত নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাতে শিল্পের চেয়ে রাজনীতিই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বৈঠকের লক্ষ্য:
পাপিয়া অধিকারী জানিয়েছেন, টলিউডের সার্বিক উন্নতি এবং শিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। বিধায়কের কথায়, “শিল্পীরা সম্মান নিয়ে কাজ করতে চান। ভয় বা চাপের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুস্থ ও সৃজনশীল কাজের পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের সংকল্প।”
বদলের ইঙ্গিত:
উল্লেখ্য, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই রাজ্য নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল যে, কে ছবি বানাবে বা নন্দনে কার ছবি মুক্তি পাবে, তা কোনো রাজনৈতিক দলের ঠিক করার বিষয় নয়। শিল্পীর মর্যাদা রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এর আগে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষও একাধিকবার কলাকুশলীদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনার উদ্যোগ নিয়েছেন।
আশার আলোয় টলিপাড়া:
ফেডারেশনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আধিপত্যের বিরুদ্ধে শিল্পীদের এই সরব হওয়া টলিপাড়ার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে কি কোনো সদর্থক সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসবে? নাকি পুরনো দাপট নতুন মোড় নেবে? এখন সেই দিকেই তাকিয়ে টলিপাড়ার একাংশ।