কলেজে এবার বিধায়কদের নজরদারি! ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’-এর নিদান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সরকারি কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এবার থেকে এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে কড়া নজর রাখতে হবে স্থানীয় বিধায়কদের। প্রয়োজনে কলেজগুলিতে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ বা আকস্মিক পরিদর্শনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শিক্ষাঙ্গনে কড়া বার্তা সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মুখ্যমন্ত্রী এই কড়া অবস্থান নিলেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো রকম বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। বিধায়কদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্কুল, কলেজ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো ও কাজের পরিবেশ খতিয়ে দেখার। কোথাও কোনো অনিয়ম নজরে এলে সরাসরি জেলা প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পুলিশকে হুঁশিয়ারি বৈঠকে বিধায়কদের ফোন না ধরার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “বিরোধী বা শাসক, যে কোনো জনপ্রতিনিধি ফোন করলে পুলিশকে তা ধরতেই হবে। হোয়টসঅ্যাপে নয়, সরাসরি ফোনে কথা বলতে হবে।” এছাড়া কোনো বিধায়কের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপের আগে তার যথাযথ কারণ স্পষ্ট করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমস্যা ও পানীয় জল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুকান্ত পল্লী আবাসনের জটিলতা ও জেলার একাংশে পানীয় জলের তীব্র সংকটের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়। ডায়মন্ড হারবারের মতো এলাকায় জলকষ্টে বিস্ময় প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের বিষয়টি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

‘উন্নয়নে সবাই সঙ্গী’ এদিনের বৈঠকে শাসক দলের পাশাপাশি বিরোধী বিধায়কদের উপস্থিতিকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গঠনমূলক সমালোচনা হতেই পারে। আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজ্যের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রশাসনিক বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পুলিশ-প্রশাসন ও শিক্ষাঙ্গনে স্বচ্ছতা ফেরাতে তিনি যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছেন, তা রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।