ইতিহাসের পাতায় দার্জিলিংয়ের টয়ট্রেন: এক মাসেই আয় প্রায় ৪ কোটি, ভেঙে চুরমার সব রেকর্ড!

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে টয়ট্রেনের বাঁশি আজও পর্যটকদের কাছে এক অমলিন রোমান্স। সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেই আয়ের নিরিখে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ল বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)। চলতি বছরের মে মাসে আয়ের সব পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্থাপন করল এই ঐতিহাসিক রেলওয়ে।

রেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে ডিএইচআর-এর কোষাগারে জমা হয়েছে মোট ৩৯৫.৬০ লক্ষ টাকা। এটি এই রেলওয়ের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ আয়ের নজির। এর আগে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ডটি ছিল গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসের (৩৫৮.৬০ লক্ষ টাকা)। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা।

কেন এই সাফল্যের জোয়ার?

ভরা পর্যটন মরশুমে পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল এবং ডিএইচআর-এর বিশেষ জয়রাইডগুলোর অত্যধিক চাহিদাকেই এই সাফল্যের মূল কারিগর হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত পাঁচ বছরের মে মাসের আয়ের তুলনামূলক চিত্র:

বছর মে মাসের আয় (লক্ষ টাকায়)
২০২২ ৩১৯.৬৪
২০২৩ ৩৫৮.১৮
২০২৪ ২৮৮.৫৮
২০২৫ ৩৫৮.৬০
২০২৬ ৩৯৫.৬০

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে মে মাসে আয় বেড়েছে প্রায় ৭৬ লক্ষ টাকা। মাঝে ২০২৪ সালে আয় কিছুটা কমলেও, পরবর্তী দুই বছরে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা এক কথায় চমকপ্রদ।

আগামীর লক্ষ্যমাত্রা:

ডিএইচআর-এর এই সাফল্যের ধারা পাহাড়ের সামগ্রিক পর্যটন অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। বর্তমান বুকিংয়ের হার ও পর্যটকদের উৎসাহ বজায় থাকলে, ২০২৬ সালের জুন মাসেও আয়ের নতুন রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখছে কর্তৃপক্ষ। জুন মাসের জন্য ইতিমধ্যেই ৩৭০ লক্ষ টাকার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।

ডিএইচআর-এর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এই আয়ের রেকর্ডে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে আমরা নতুন পরিষেবা এবং হেরিটেজ টয়ট্রেনের ইঞ্জিন আরও বেশি করে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছি। আশা করছি, আগামীতে আয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”