অফিসে ফাঁকিবাজি আর নয়! ১৫ জুন থেকে সরকারি কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ‘ফেস রিকগনিশন’

সরকারি অফিসে কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে এবং কাজে গতি আনতে বড়সড় উদ্যোগ নিল নবান্ন। রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের হাজিরা নিয়ে জারি করা হলো অত্যন্ত কঠোর নির্দেশিকা। আগামী ১৫ জুন থেকেই রাজ্য প্রশাসনিক ভবন নবান্নে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হতে চলেছে ‘ফেস রিকগনিশন’ বা মুখাবয়ব শনাক্তকরণ বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা।

নিয়ম মানতে হবে অক্ষরে অক্ষরে: নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি অফিসে প্রবেশের সময় এবং অফিস থেকে বেরোনোর সময়—উভয় ক্ষেত্রেই বায়োমেট্রিক যন্ত্রে নিজের উপস্থিতি নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। নবান্ন সূত্রে খবর, এই ব্যবস্থা কেবল প্রধান প্রশাসনিক ভবনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি দফতরে এই আধুনিক হাজিরা পদ্ধতি কার্যকর করা হবে।

দেরি করলেই মিলবে শাস্তি: প্রশাসনের নতুন এই বিধিনিষেধ অনুযায়ী:

  • বিলম্বিত প্রবেশ: সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে অফিসে এলে তা ‘লেট’ হিসেবে গণ্য হবে। আর সকাল ১১টার পর পৌঁছলে সরাসরি ওই দিনের জন্য ‘অনুপস্থিত’ বলে ধরা হবে।

  • সময়ের আগে প্রস্থান: বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস থেকে বেরোলে তা ‘আর্লি ডিপার্চার’ হিসেবে গণ্য হবে।

  • ছুটি কাটার নিয়ম: মাসে মোট তিনবার দেরি করে আসা বা সময়ের আগে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে, শাস্তিস্বরূপ কর্মীর একদিনের নৈমিত্তিক ছুটি (CL) বা চাইল্ড কেয়ার লিভ (CCL) কেটে নেওয়া হবে।

  • প্রস্থানের রেকর্ড: অফিস থেকে বেরোনোর সময় যন্ত্রে নিজের রেকর্ড নথিভুক্ত না করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মীকে অনুপস্থিত বলে ধরা হবে।

কিছুটা ছাড় কোথায়? তবে সরকারি কাজে বাইরে থাকলে এই নিয়মে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বা দফতরের জরুরি প্রয়োজনে কর্মীরা দেরি করলে বা আগে বেরিয়ে গেলে, সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ছাড় দিতে পারবেন। এছাড়া সদর দফতরের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী কর্মীদের জন্য বিদ্যমান বিশেষ ছাড় আগের মতোই বজায় থাকবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে তৎপর। বিচারবিভাগের পর এবার খাস নবান্নে এই কড়া নির্দেশিকা কার্যকর করে রাজ্য সরকার সরকারি কাজের গতি বাড়াতে বদ্ধপরিকর।