অটিজম শনাক্তে নতুন আশা! মাত্র এক ফোঁটা মূত্রেই ধরা পড়বে শিশুর অটিজম?

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) বা অটিজম মূলত একটি স্নায়ুবিকাশজনিত অবস্থা। সাধারণত শৈশবে আচরণগত লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে এটি শনাক্ত করা হয়, যা বেশ সময়সাপেক্ষ। তবে সম্প্রতি ‘মলিকিউলার সাইকিয়াট্রি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা অটিজম নির্ণয়ের এক যুগান্তকারী পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন। গবেষকদের দাবি, মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে মাত্র ২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যেও অটিজমের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

গবেষণায় কী বেরিয়ে এল?
গবেষকরা অটিজমে আক্রান্ত এবং আক্রান্ত নয়—এমন শিশুদের মূত্রের নমুনা নিয়ে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের মূত্রে কিছু নির্দিষ্ট জৈবিক চিহ্নের উপস্থিতি সাধারণ শিশুদের থেকে আলাদা। এই জৈবিক সংকেতগুলো শরীরে অন্ত্রে বসবাসকারী অণুজীব বা মাইক্রোবায়োমের কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই অনন্য রাসায়নিক ধরন বা ‘বায়োমার্কার’ বিশ্লেষণ করেই অটিজমের ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব।

নতুন প্রযুক্তির সুবিধা:

সহজ ও সাশ্রয়ী: বর্তমানের জটিল আচরণগত পরীক্ষার তুলনায় মূত্র পরীক্ষা অনেক সহজ ও কম খরচে প্রাথমিক স্ক্রিনিং হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রাথমিক সহায়তা: অটিজম যত দ্রুত ধরা পড়বে, শিশুরা তত দ্রুত প্রয়োজনীয় থেরাপি ও বিশেষজ্ঞের সহায়তা পেতে পারবে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করবে।

এখনই কি ক্লিনিক্যাল ব্যবহার সম্ভব?
বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে আশাবাদী হলেও, সাধারণ পাঠকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দিয়েছেন। এই পদ্ধতিটি এখনও গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি এখনও কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতির অংশ হয়ে ওঠেনি। বর্তমান সময়ে অটিজম নির্ণয়ের জন্য শিশুর বিকাশ ও আচরণগত পর্যালোচনাই প্রধান উপায়। বৃহত্তর পরিসরে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এই মূত্র পরীক্ষাকে চূড়ান্ত বা একমাত্র নির্ণায়ক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

উপসংহার:
যদিও এটি এখনও নিয়মিত চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগী নয়, তবে বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার অটিজম নির্ণয়ের ভবিষ্যতের জন্য এক আশার আলো। অদূর ভবিষ্যতে যদি এই পরীক্ষাটি সফলভাবে প্রচলিত হয়, তবে হাজার হাজার পরিবার অটিজম সম্পর্কে আগেভাগে নিশ্চিত হয়ে তাদের সন্তানকে সময়মতো উন্নত সহায়তা দিতে পারবে।