ব্যয়বহুল চিকিৎসায় আর দুশ্চিন্তা নেই! মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য প্রকল্পে বিনামূল্যে সুস্থ হলেন গুলশান তানেজা

বর্তমান সময়ে হাড় ও অস্থিসন্ধির সমস্যা জনস্বাস্থ্যের এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যায় জর্জরিত রোগীদের জন্য পাঞ্জাব সরকারের ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য প্রকল্প’ এক আশার আলো হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এই প্রকল্পের আওতায় ৮৪ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হয়েছে, যা রাজ্যের রোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এক বড় পদক্ষেপ।

গুলশান তানেজার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
রাজপুরার খেদা গাজ্জুর বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী গুলশান তানেজা এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে লিগামেন্ট ছিঁড়ে ফেলার সমস্যায় ভুগছিলেন। তীব্র ব্যথা ও আড়ষ্টতার কারণে তাঁর হাঁটাচলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কিন্তু অভাবের সংসারে ৮৬,৭৫০ টাকার চিকিৎসা খরচ বহন করা ছিল তাঁর জন্য এক দুঃস্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য প্রকল্পের কল্যাণে পাতিয়ালার রাজেন্দ্র হাসপাতালে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস পদ্ধতিতে তাঁর চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। সুস্থ হওয়ার পর গুলশান বলেন, “সেহাত কার্ডের কল্যাণে আমাকে এক পয়সাও দিতে হয়নি। এই প্রকল্প আমাদের মতো সাধারণ পরিবারের ওপর থেকে বড় আর্থিক বোঝা নামিয়ে দিয়েছে।”

সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চিকিৎসায় জোর
পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ বলবীর সিং জানিয়েছেন, রাজ্যে হাড় ও জয়েন্ট সংক্রান্ত রোগের হার দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ক্যাশলেস পদ্ধতিতে হাঁটু, নিতম্ব ও ট্রমা বা আঘাতজনিত চিকিৎসার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। তাঁর কথায়, “গত চার মাসে ৮৪ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় কেবল স্বাস্থ্য পরিষেবার বর্ধিত ব্যবহারই নয়, বরং রোগীদের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও অক্ষমতা হ্রাসের একটি বড় প্রচেষ্টা।”

প্রকল্পের বিশেষ দিকগুলো:

ক্যাশলেস সুবিধা: এই প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত রোগীরা কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা করাতে পারছেন।

বিপুল বিনিয়োগ: হাড় ও জয়েন্টের চিকিৎসায় মাত্র চার মাসে ৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রমাণ করে সরকার জনস্বাস্থ্যের উন্নতির প্রতি কতটা দায়বদ্ধ।

লক্ষ্য: আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোকে ব্যয়বহুল চিকিৎসার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করা এবং সবাইকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতায় নিয়ে আসা।

পাঞ্জাব সরকারের এই জনমুখী প্রকল্প একদিকে যেমন রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনছে, তেমনি চিকিৎসা খরচ নিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার অবসান ঘটাচ্ছে।