বিহারের মাদ্রাসাগুলোতে কড়া নজরদারি সরকারের! কি হতে চলেছে নতুন নিয়মে?

বিহারের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে এবং সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার যাচাই করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিল সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসায় এখন থেকে চলবে সরেজমিন পরিদর্শন।

পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য:
শিক্ষা দপ্তরের সচিব বিনোদ সিং গুঞ্জিয়ালের নির্দেশনায় রাজ্যের প্রতিটি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে (DEO) এই কাজে যুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:

মানসম্মত শিক্ষা: সরকারি অর্থে বেতনভুক শিক্ষকরা ঠিকমতো পাঠদান করছেন কি না তা নিশ্চিত করা।

তথ্যের স্বচ্ছতা: প্রতিটি মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের সঠিক পরিসংখ্যান যাচাই করা।

ই-শিক্ষা কোশ (E-Shiksha Kosh): প্রতিটি মাদ্রাসাকে এই পোর্টালে তাদের সমস্ত তথ্য আপলোড করতে বলা হয়েছে, যাতে সরকারি সাহায্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি:
প্রতিটি ব্লকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম খতিয়ে দেখবে এবং নিয়মিত রিপোর্ট জমা দেবে। উল্লেখ্য, বিহারে বর্তমানে ১,৯৩৭টি মাদ্রাসা সরকারি সাহায্য (Grant-in-aid) পায়। সব মিলিয়ে রাজ্যে প্রায় ৩,০০০ মাদ্রাসায় ৭ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং ১৫,০০০-এর বেশি শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় নিয়োগ:
শুধু মাদ্রাসা নয়, বিহারের ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য (Pro-Vice Chancellor) নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। রাজভবনের নির্দেশে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে:

আবেদন: যোগ্য শিক্ষাবিদরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

শেষ তারিখ: ১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে।

যোগ্যতা: অধ্যাপক হিসেবে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং সর্বোচ্চ ৬৭ বছর বয়স্ক ব্যক্তিরা আবেদনের যোগ্য।
পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়, পূর্ণিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং তিলকা মাঞ্জি ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নিয়োগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।