মহালয়াতেই নবমী! বার্নপুরের এই গ্রামে কেন বছরে মাত্র একদিন পূজিতা হন ‘কুমারী দুর্গা’?

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, কিন্তু মহালয়ার ভোরেই যদি নবমীর পুজো হয়? শুনতে অবাক লাগলেও, আসানসোলের বার্নপুরের ধেনুয়া গ্রামে কয়েক দশক ধরে চলে আসছে এমনই এক অনন্য ও রোমাঞ্চকর রীতি। এখানে দেবী দুর্গা ‘মা’ হিসেবে নয়, বরং ‘কুমারী’ রূপে পূজিতা হন।
কী এই রহস্যময় রীতি? সাধারণত দুর্গাপুজোর সময় পাঁচ দিনের উৎসব হয়, কিন্তু ধেনুয়া গ্রামের এই পুজো হয় মাত্র একদিনের। মহালয়ার পুণ্যলগ্নেই এখানকার স্থানীয় মানুষ নবমীর আমেজ পান। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই পুজোয় দেবী একা আসেন না, সঙ্গে থাকেন তাঁর সখী। এই বিশেষ দিনে গ্রামের মানুষ দেবীর এক অভূতপূর্ব রূপ প্রত্যক্ষ করেন, যা বছরের আর কোনোদিন দেখা যায় না।
কেন এই নিয়ম? গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এই রীতি তাঁদের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রথা অনুযায়ী, দেবী দুর্গা এখানে কুমারী রূপেই আসেন এবং তাঁর সখীদের সঙ্গেই ভক্তদের আশীর্বাদ করেন। একদিনের এই পুজোকে কেন্দ্র করে এলাকায় যে ভক্তি ও শ্রদ্ধার আবহ তৈরি হয়, তা দূর-দূরান্তের মানুষকেও আকৃষ্ট করে।
মহালয়ার ভোরে যখন গোটা দেশ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠের সুরে মগ্ন থাকে, তখন ধেনুয়া গ্রাম সেজে ওঠে ভিন্ন এক উৎসবের সাজে। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা বাংলার এমন অনেক লোকসংস্কৃতির মধ্যে অন্যতম এই ধেনুয়ার দুর্গা পুজো, যা আজও অটুট রেখেছে তার প্রাচীন মাহাত্ম্য।