স্করপিও গাড়িতে রক্তভেজা দেহ! অপহরণের পর গুলিতে খুন যুবক, মিরাটে চাঞ্চল্য

উত্তরপ্রদেশের মিরাটে সম্পত্তিগত বিবাদের জেরে এক যুবককে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল। খারখোদা থানা এলাকার কাইলি গ্রামে একটি মাঠের ভেতর পার্ক করে রাখা স্করপিও গাড়ির ভিতর থেকে তুষার ত্যাগী নামে ওই যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে পরিবারের অন্দরের বিবাদ ও জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতা থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে।
অপহরণ ও ভয়াবহ পরিণতি
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাপুরের বাসিন্দা অরবিন্দ ত্যাগী ওরফে বিট্টু তুষারকে ফোন করে খাবার আনার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে পাঠায়। অভিযোগ, এরপর থেকেই তুষার নিখোঁজ ছিলেন। স্ত্রী শিখা ত্যাগী ও বোন গিন্নি ত্যাগী সারারাত হন্যে হয়ে তুষারের খোঁজ করেন। তুষার নিখোঁজ অবস্থায় স্ত্রীকে ফোন করে জানান যে, তাকে জোর করে অপহরণ করা হয়েছে। শিখা যখন অভিযুক্ত অরবিন্দ ওরফে বিট্টুকে ফোন করেন, তখন সে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় জানায়, “তুষারকে গুলি করা হয়েছে”—এই কথা বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
গাড়ির ভেতর রক্তস্নাত দেহ
দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর মিরাটের একটি মাঠে তুষারের গাড়িটি পার্ক করা অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। গাড়ির ভেতরেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন তুষার। দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হলে তুষারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পারিবারিক বিবাদের ছায়া
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মৃতের স্ত্রী ও বোন জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। এমনকি তুষারের মায়ের নামে থাকা বিশাল সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়েও পরিবারের অন্দরে অশান্তি চলছিল। এই খুনের পিছনে নিহতের বাবারও হাত থাকতে পারে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
তদন্তে পুলিশ
গ্রামীণ পুলিশ সুপার অভিজিৎ কুমার জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সুপার আরও জানান:
খুনের ঘটনায় নিহতের বাবার নামও সামনে এসেছে।
অভিযুক্তরা সকলেই বর্তমানে পলাতক।
অপরাধীদের ধরতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
সম্পত্তির লড়াই শেষ পর্যন্ত যে এমন রক্তক্ষয়ী পরিণতি ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি স্থানীয়রা। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপে প্রকৃত অপরাধীরা সামনে আসবে বলেই আশা করছে তুষারের পরিবার।