তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ‘ডিম’ বর্ষণ! নৈহাটিতে জনরোষের মুখে প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই শাসকদলের নেতা-নেত্রীদের ঘিরে বিভিন্ন জেলায় ক্ষোভের ছবি প্রকাশ্যে আসছে। সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার জনরোষের কেন্দ্রে নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে। গতকাল রাতে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঠিক কী ঘটেছিল নৈহাটিতে?
সূত্রের খবর, শনিবার রাতে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় বাইকে চড়ে নৈহাটির দলীয় প্রধান কার্যালয়ে আসেন প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর হাতে বড় বড় কিছু ব্যাগ ছিল। পার্টি অফিসে কোনো সন্দেহজনক নথি বা বস্তু সরানোর উদ্দেশ্যে তিনি এসেছিলেন বলে দাবি এলাকাবাসীর। মুহূর্তে উত্তেজিত জনতা পার্টি অফিসটি ঘিরে ফেলে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার বলয়েই প্রাক্তন বিধায়ককে অফিস থেকে উদ্ধার করে বের করে আনা হয়। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হয় এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে থাকে জনতা।
বিজেপির অভিযোগ ও দাবি
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ওই পার্টি অফিসের ভেতরেই নানা অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন এই প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁদের বক্তব্য, “তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে চার তারিখের পর মানুষকে দেখে নেবেন। এখনও ওই অফিসের ভেতরে অনেক কিছুই লুকিয়ে রাখা আছে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।” বিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা তৃণমূলের কোনো অফিস দখল করবে না, তবে পুলিশ প্রশাসনের কাছে তাদের দাবি—ওই অফিস খুলে তল্লাশি চালানো হোক এবং অভিযুক্ত প্রাক্তন বিধায়ককে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
একের পর এক তৃণমূল নেতাকে ঘিরে জনরোষের এই ঘটনা শাসকদলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভই যেন এখন বিভিন্ন এলাকায় এই ডিম ছোড়া বা স্লোগানের মাধ্যমে বেরিয়ে আসছে। প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ ও জনরোষের প্রেক্ষিতে তৃণমূল নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।