বিজেপির প্রকল্প, ফর্ম বিলি করছেন তৃণমূল কাউন্সিলররা! জনস্বার্থে কি বদলাচ্ছে রাজনীতির রসায়ন?

রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদলের পরেও জনসেবার প্রশ্নে এক নজিরবিহীন ছবি উঠে এল শহর কলকাতায়। বিজেপি সরকারের ঘোষিত জনপ্রিয় প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সুবিধা যাতে যোগ্য মহিলাদের কাছে দ্রুত পৌঁছায়, তার জন্য উদ্যোগী হলেন তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার জনপ্রতিনিধিরাই। ওয়ার্ড অফিস, ক্লাবঘর থেকে শুরু করে বরো অফিস—সর্বত্রই এখন ফর্ম বিলি ও ফর্ম পূরণের কাজে ব্যস্ত তৃণমূল কর্মীরা।

কেন এই উদ্যোগ?
তৃণমূল কাউন্সিলরদের কথায়, ভোটের লড়াই শেষ। এখন সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। তাঁদের মতে, রাজ্য সরকারের অন্ধ বিরোধিতা না করে সামগ্রিক উন্নয়নের কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াটাই রাজনীতির শ্রেয়। কাউন্সিলরদের মতে, ভাতার ৩,০০০ টাকা যোগ্য নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া একজন পুরপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব।

পুরপ্রশাসনে নতুন সমীকরণ
কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডেই ফর্ম পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের তত্ত্বাবধানে। ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে স্বয়ং মেয়র পারিষদ অসীম বসুকে আবেদনকারীদের সাহায্য করতে দেখা গেছে। তৃণমূলের প্রায় ৬০ জন কাউন্সিলর প্রথম দফায় এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন। বিজেপির তরফে যদিও অভিযোগ করা হয়েছে যে, মানুষের ক্ষোভ এড়াতেই তৃণমূলের একাংশ এই পথে হাঁটছে, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের সমন্বয় সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক।

সমন্বিত প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষ খুশি
অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে, বিজেপি কর্মীদের পাশাপাশি তৃণমূলের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরাও ফর্ম পূরণে মহিলাদের সহায়তা করছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই প্রশাসনিক ও পুর-প্রতিনিধিদের এই মেলবন্ধন শহরের রাজনৈতিক আবহে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, যোগ্য প্রাপক যাতে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই এই সমন্বিত উদ্যোগের একমাত্র লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও, জনসেবার এই ‘টিম ওয়ার্ক’ আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।