মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে ‘ফ্রি’ যাত্রা! প্রথম দিনেই রেকর্ড ভিড়, খুশির হাওয়া রাজ্যজুড়ে

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ১ জুন ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই রাজ্যের সর্বত্র সরকারি বাসগুলোতে মহিলা যাত্রীদের বিপুল ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শহর থেকে শহরতলি—প্রতিটি রুটেই এখন মহিলাদের জন্য ‘জিরো ভ্যালু’ টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রথম দিনের চিত্র:
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে মহিলাদের এই বিনামূল্যে বাস সফর ঘিরে উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে অন্যান্য দিনের তুলনায় মহিলা যাত্রীদের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। বারাসাত-করুণাময়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে এসি ও নন-এসি বাসেও মহিলাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। পরিবহণ দপ্তরের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাসে প্রায় ৯ হাজার মহিলা যাত্রী সফর করেছেন। সব মিলিয়ে, সরকারি বাসগুলোতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ যাত্রী ছিলেন মহিলারা।

কীভাবে মিলছে এই সুবিধা?
আপাতত কোনো বিশেষ কার্ড ছাড়াই সরকারি অনুমোদিত যেকোনো পরিচয়পত্র (আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট বা কলেজ আইডি) দেখালেই কন্ডাক্টররা বিনামূল্যে ‘জিরো ভ্যালু’ টিকিট বা থার্মাল পেপারের বিশেষ টিকিট তুলে দিচ্ছেন। তবে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে এই সুবিধার জন্য মহিলাদের একটি বিশেষ ‘স্মার্ট কার্ড’ বা ‘পিঙ্ক কার্ড’ দেওয়া হবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট বিডিও বা এসডিও অফিসে আবেদন করতে হবে।

মন্ত্রীর নজরদারি ও সরকারি পদক্ষেপ:
এই পরিষেবা যাতে সুষ্ঠুভাবে চলে, তা নিশ্চিত করতে খোদ পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিজেই রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। তিনি গড়িয়াহাট থেকে রুবি পর্যন্ত সরকারি এসি বাসে ভ্রমণ করে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা শোনেন। অন্যদিকে, রানি রাসমণি রোড সংলগ্ন বাস স্ট্যান্ডে উপস্থিত থেকে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ যাত্রীদের হাতে টিকিট তুলে দিয়ে এই পরিষেবার সূচনা করেন।

মধ্যবিত্তের স্বস্তি:
নিত্যযাত্রী মহিলাদের জন্য এই ভাড়া মকুবের বিষয়টি এক বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে। কর্মসূত্রে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় এমন বহু মহিলার কাছে যাতায়াতের খরচ শূন্য হয়ে যাওয়ায় মাস শেষে অনেকটা সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। সরকারের এই উদ্যোগ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।