তৃণমূলের ‘সই’ বিতর্কে নয়া মোড়! সই জাল নয়, সিআইডির নজরে এবার চিঠির বৈধতা

সই জাল অভিযোগের জেরে এমনিতেই অস্বস্তিতে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার ওপর এবার সেই বিতর্কে যোগ হলো নথিপত্র সংক্রান্ত নতুন জটিলতা। তৃণমূলের বিধানসভায় জমা দেওয়া চিঠির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা (CID)। তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা প্রাক্তন শাসক দলের বিপদ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রেজিউলেশন বুকে ভুলের পাহাড়
সিআইডি সূত্রে খবর, তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিধানসভার অধ্যক্ষকে পাঠানো চিঠির সঙ্গে তাদের অভ্যন্তরীণ ‘মিটিং রেজিউলেশন বুক’-এর তথ্যের ব্যাপক অমিল পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই রেজিউলেশন নোট বুকে বিধায়কদের ক্রমিক নম্বর নিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। বিশেষ করে ৫, ১৬ এবং ২৬ নম্বর ক্রমিক সংখ্যাগুলো সেখানে অনুপস্থিত, যা পুরো নথির বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

তারিখ নিয়েও ধোঁয়াশা
শুধু ক্রমিক সংখ্যা নয়, সই করার পরের তারিখ নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। রেজিউলেশন বইয়ের শুরুতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সইয়ের পাশে যে তারিখ লেখা রয়েছে, তা দেখে তদন্তকারীদের মনে হয়েছে সেটি ‘৫ মে’ লেখা। এই তারিখ সংক্রান্ত অসংগতি তদন্তের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিপাকে তৃণমূল, বাড়ছে অস্বস্তি
তৃণমূলের অন্দরে এই ‘সই’ অস্বস্তি ঢাকতে ইতিমধ্যেই ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু এরপরই বহিষ্কৃত বিধায়কদের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার জল্পনা এবং আরও বিধায়কের বিদ্রোহী হওয়ার বার্তা নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর পার্টি অফিস সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। লিপস অ্যান্ড বাউন্সের নামে কেনা সেই কার্যালয় নিয়ে অভিযোগ, ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই সেখানে উত্তজনা চলছে।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সিআইডির তদন্তে উঠে আসা নথিগত গরমিল এবং অন্যদিকে দলীয় কার্যালয় নিয়ে আইনি জটিলতা— জোড়া ফলায় বিদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস। এখন দেখার বিষয়, আগামী বুধবার হাইকোর্টে এই মামলার শুনানির পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।