‘সব করেছি দিদির কথাতেই, জেল খাটছি কেন?’ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যে শোরগোল!

জেলবন্দি দশা থেকে বেরিয়ে আসার পরেই যেন আরও ধারালো প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সুর। তবে এবার নিশানায় সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক মন্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরোপুরি বদলে গেছেন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
দিদির নির্দেশেই সব, তাহলে জেল কেন?
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথায় এদিন ফুটে উঠেছে চরম ক্ষোভ। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, “দলের স্বার্থে দিদি যা যা বলেছিলেন, আমি তার সবটাই করেছি। বিনিময়ে আজ আমাকে জেল খাটতে হচ্ছে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য আসলে সরাসরি দলনেত্রীর দিকেই আঙুল তুলছে। নিজের জেলবাসের জন্য তিনি পরোক্ষভাবে দলের নির্দেশ বা রণকৌশলকেই দায়ী করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শুভেন্দু ও শিশির অধিকারীকে নিয়ে নতু্ন সমীকরণ?
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আরও একটি মন্তব্য চমকে দিয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। তিনি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তৃণমূলের “বড় সম্পদ” বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, প্রবীণ নেতা শিশির অধিকারীকে নিজের “নেতা” হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। শুভেন্দু ও শিশির অধিকারীর সঙ্গে পার্থর এই সুসম্পর্কের ইঙ্গিত কি নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে? নাকি এটি কেবলই দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রকাশ— তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চুলচেরা বিশ্লেষণ।
রাজনীতিতে প্রভাব কতটা?
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের প্রভাব তৃণমূলের অন্দরে কতখানি পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দলের ভেতরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা পুরনো নেতাদের অভিমান যে ক্রমশ প্রকট হচ্ছে, এই মন্তব্য তারই একটি বহিঃপ্রকাশ কি না, তা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিশেষ করে, যখন শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে বিজেপির প্রধান মুখ, তখন তাঁর প্রশংসায় পার্থর সরব হওয়া তৃণমূলের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
বিরোধী শিবির এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে সামনে আনতে চাইছে। অন্যদিকে, ঘাসফুল শিবির এই মন্তব্যের গুরুত্ব দিতে নারাজ। তবে রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— জেলবন্দি দশা থেকে বেরিয়ে আসা পার্থ চট্টোপাধ্যায় কি ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করছেন?