২৭ থেকে সরাসরি ১! পাঞ্জাবের সরকারি স্কুলের ‘রূপকথার’ উত্তরণে অবাক শিক্ষা মহল

একসময় পাঞ্জাবের সরকারি স্কুলগুলোর অবস্থা ছিল দেশের অন্যতম অনগ্রসর। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে শিক্ষা তালিকায় পাঞ্জাবের অবস্থান ছিল তলানিতে (২৭তম)। কিন্তু মাত্র চার বছরের ব্যবধানে সেই ছবি আমূল বদলে গেছে। নীতি আয়োগের ‘শিক্ষার গুণমান প্রতিবেদন ২০২৬’ অনুযায়ী, বর্তমানে পাঞ্জাব কেরালা, মহারাষ্ট্র এবং দিল্লির মতো রাজ্যগুলোকে পিছনে ফেলে শিক্ষার মানচিত্রে দেশের এক নম্বর রাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে।
পরিসংখ্যানই বলছে সাফল্যের কথা
নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, পাঞ্জাবের সরকারি স্কুলের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত এখন অত্যন্ত মজবুত। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভাষায় ৮২ শতাংশ এবং গণিতে ৭৮ শতাংশ দক্ষতা অর্জন করেছে। এমনকি নবম শ্রেণির গণিতেও পাঞ্জাব ৫২ শতাংশ স্কোর করে দেশের প্রথম সারিতে অবস্থান করছে।
কীভাবে এল এই পরিবর্তন?
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ:
আধুনিক পরিকাঠামো: বর্তমানে পাঞ্জাবের ৯৯.৯ শতাংশ স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। স্মার্ট ক্লাসরুমের নিরিখে রাজ্যের অবস্থান ৮০.১ শতাংশ, যা প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানার তুলনায় অনেক বেশি। ৯৯ শতাংশ স্কুলে রয়েছে সচল কম্পিউটার।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ: পাঞ্জাবের শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ফিনল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশে পাঠানো হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা রাজ্যের শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
মেধার জয়গান: শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার ফলে সরকারি স্কুলের ৭৮৬ জন পড়ুয়া JEE Main এবং ১,২৮৪ জন NEET পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইতিহাস গড়েছে।
স্কুল অফ এমিনেন্স: রাজ্যে ১১৮টি অত্যাধুনিক ‘স্কুল অফ এমিনেন্স’ তৈরি করা হয়েছে, যা আগামীর পাঞ্জাবের ভিত মজবুত করছে।
ইংলিশ এজ কর্মসূচি: ৩ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য শুরু হয়েছে ‘ইংলিশ এজ’ (English Edge) কর্মসূচি, যা শিশুদের বিশ্বমঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করছে।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে শিক্ষা
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঞ্জাবের এই সাফল্য কেবল সরকারি স্লোগান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফল। হরিয়ানার মতো রাজ্যের দীর্ঘকালীন শাসনব্যবস্থাকে শিক্ষার গুণমানে পাঞ্জাব যে ব্যবধানে পিছনে ফেলেছে, তা স্পষ্ট করে দেয় যে সদিচ্ছা থাকলে সরকারি পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আজ পাঞ্জাবের গ্রামগুলোতেও অভিভাবকরা গর্বের সঙ্গে জানান, তাঁদের সন্তান সরকারি স্কুলে পড়ছে। একটি রাজ্য কীভাবে শিক্ষাকে রাজনীতির হাতিয়ার না করে উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, পাঞ্জাব তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।