২০২৭-এর গেমপ্ল্যান! কংগ্রেসকে কত আসন দেবে এসপি? ফাঁস হলো অখিলেশের ব্লুপ্রিন্ট

২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। গত লোকসভা নির্বাচনের সাফল্যের পর, এবার বিধানসভাতেও সমাজবাদী পার্টি (SP) ও কংগ্রেসের জোট কার্যত চূড়ান্ত হতে চলেছে। আসন ভাগাভাগি নিয়ে পর্দার আড়ালে শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা। শোনা যাচ্ছে, সাবেক আইএএস কর্মকর্তা অলোক রঞ্জনের নেতৃত্বে তৈরি রিপোর্ট অনুযায়ী জোটের রূপরেখা তৈরি করছে অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বাধীন এসপি।

৭০-৭৫ আসনের ফর্মুলা: অখিলেশের বাজি
সূত্রের খবর অনুযায়ী, জোটের অংশ হিসেবে কংগ্রেসকে ৭০ থেকে ৭৫টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন অলোক রঞ্জন। তবে এই আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব। দলীয় সূত্রে খবর, কোনো সুপারিশ নয়, বরং শুধুমাত্র মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষা ও জয়ের সম্ভাবনার ভিত্তিতেই টিকিট বণ্টন করা হবে।

অখিলেশের বিশেষ পরিকল্পনায় রয়েছে আরও একটি চমক:

জয়যোগ্য প্রার্থীকে প্রাধান্য: জোটের নির্ধারিত ৭০-৭৫টি আসনের বাইরেও কংগ্রেসের ৮-১০ জন প্রভাবশালী নেতাকে আলাদাভাবে টিকিট দেওয়ার কথা ভাবছেন অখিলেশ।

তালিকাভুক্ত নাম: সুপ্রিয়া শ্রীনাতে, অজয় কুমার লাল্লু, অখিলেশ সিং এবং পিএল পুনিয়ার পুত্রবধূর মতো নেতাদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

তৃণমূল স্তরে নজরদারি
৪০৩টি আসনেই সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা তৈরি করছে এসপি। অখিলেশ যাদব নিজেই প্রতিটি জেলার বিধায়ক ও সাংসদদের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছেন—কোন আসনগুলো কংগ্রেসের জন্য নিরাপদ হতে পারে। মূলত যে আসনগুলোতে উচ্চবর্ণের ভোটাররা কংগ্রেসকে সমর্থন করেন, সেগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

জোট ঘিরে দোটানা ও চ্যালেঞ্জ
তবে এই জোটের পথ মোটেও মসৃণ নয়। কিছু বিতর্ক ও ভিন্নমত প্রকাশ্যে এসেছে:

আসন দাবি: কংগ্রেস শুরুতে ১২০টি আসনের দাবি জানালেও, চূড়ান্ত সমঝোতা ৭০-৮০টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তৃণমূল নেতাদের অস্বস্তি: অনেক তৃণমূল নেতা আসন হারানোর ভয়ে জোট নিয়ে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

বিরোধীদের অস্ত্র: কংগ্রেসের একাংশের আশঙ্কা, জোট করলে বিজেপি সহজেই ‘তোষণ’ বা ‘আইন-শৃঙ্খলা’ ইস্যুতে আক্রমণ করার সুযোগ পাবে।

অতীতের তিক্ততা ভুলে সামনে তাকাচ্ছে জোট
২০২৩ সালে দুই দলের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকলেও, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবের রসায়ন সাফল্য এনেছিল। এখন সেই সমীকরণকেই বিধানসভা নির্বাচনে কাজে লাগাতে চায় দুই দল। তবে ‘জেতার মতো আসন’ বাছাই নিয়েই আসন ভাগাভাগির মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত আলোচনায় উভয় দল নিজেদের দাবি থেকে কতটা সরে আসে এবং এই জোট বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে কতটা আঘাত করতে পারে।