হামিরপুরে ভয়াবহ সেতু বিপর্যয়! দায়ীদের ছাড় নয়, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি যোগী আদিত্যনাথের

উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরে বেতওয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু ধসের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পি-৫ থেকে পি-৬ স্প্যান ধসে পড়ে ৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে ইতিমধ্যেই দুটি উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষী ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।

তদন্তের জালে প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত গাফিলতি
সেতু ধসের কারণ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (নমামি গঙ্গে) নেতৃত্বে এই কমিটি ঘটনার প্রযুক্তিগত ও পদ্ধতিগত গাফিলতিগুলো খতিয়ে দেখছে। এর পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ ব্রিজ কর্পোরেশন আলাদাভাবে একটি তদন্ত শুরু করেছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক গোয়েল জানিয়েছেন, কুরারা থানায় আইপিসির ১০৬(১) ও ১২৫(এ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের পাশে সরকার
দুর্ঘটনায় নিহত ৬ জন শ্রমিকের পরিবারকে সহায়তার জন্য সরকার ও নির্মাণ সংস্থা মেসার্স শেল্টার ইনফ্রা প্রজেক্টস লিমিটেড যৌথভাবে উদ্যোগ নিয়েছে:

সরকারি অনুদান: নিহতদের পরিবারকে এককালীন ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা।

নির্মাণ সংস্থার সহায়তা: মৃত প্রতিটি শ্রমিকের পরিবারকে অতিরিক্ত ১০ লক্ষ টাকা প্রদান।

শ্রম কল্যাণ তহবিল: শ্রম বিভাগের প্রকল্পের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলোকে ১.২৫ লক্ষ টাকা করে সহায়তা প্রদান।

সামাজিক সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:

শিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষা: প্রয়াত রাজেশ পালের দুই কন্যাকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর শিশু সেবা প্রকল্প’-এর আওতায় আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে পাবেন।

পেনশন ও আবাসন: শোকতপ্ত পরিবারগুলোকে ‘জাতীয় পরিবার কল্যাণ প্রকল্প’, ‘বার্ধক্য পেনশন’ ও ‘অসহায় নারী পেনশন’ প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়াও অন্ত্যোদয় রেশন কার্ড, আবাসন এবং শৌচাগার প্রকল্পের সুবিধাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্মাণের মান ও সুরক্ষার বিষয়ে কোনো রকম আপস সহ্য করা হবে না। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।