ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা! ইউক্রেনের কিয়েভসহ একাধিক শহরে রক্তক্ষয়ী রুশ আক্রমণ

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সতর্কবার্তার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, ডনিপ্রো এবং খারকিভ-সহ দেশের একাধিক বড় শহরে একযোগে এই বড় আকারের হামলা চালিয়েছে মস্কো।

হামলার তীব্রতা ও প্রাণহানি:
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানীর কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ফলে ২৪ তলা বিশিষ্ট একটি বহুতল ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে, যার নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিয়েভ মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, রাজধানীতে অন্তত ৪ জন নিহত এবং প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন।

ডনিপ্রো অঞ্চলে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং প্রায় ৩৬ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকার্য চলাকালীন পুনরায় হামলার (ডাবল-ট্যাপ) কারণে একজন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন। এদিকে, খারকিভেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা:
হামলার সংকেত পাওয়ার পরপরই হাজার হাজার কিয়েভবাসী নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে মেট্রো স্টেশনের ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেন। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া এই হামলায় বিপুল পরিমাণ ড্রোন এবং অন্তত ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার মধ্যে একাধিক হাইপারসনিক ‘জিরকন’ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকগুলোকে প্রতিহত করলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ চার বছরের বেশি সময় ধরে চলছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বর্তমানে শান্তি আলোচনার কোনো সদর্থক ইঙ্গিত না মেলায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। রাশিয়ার দাবি, তারা সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রগুলোতে এই হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের পালটা ড্রোন হামলা রাশিয়ার অভ্যন্তরেও চাপ সৃষ্টি করছে।

ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ এখন যুদ্ধের এই নতুন পর্যায়ে এক প্রকার অসহায় জীবনযাপন করছে। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ এখন এই ভয়াবহ হামলার প্রতিক্রিয়ার দিকে।