তৃণমূলের অন্দরে সই জালিয়াতির মহাবিস্ফোরণ! সরাসরি অভিষেককে নিশানা করলেন বিদ্রোহী দুই বিধায়ক

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সই জালিয়াতির অভিযোগে তৈরি হয়েছে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা। দলের অন্দরের এই চাঞ্চল্যকর ‘জালিয়াতি’র বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে সরব হয়েছেন এবং সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
কী অভিযোগ?
অভিযোগ উঠেছে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে বিধানসভায় তৃণমূলের তরফে যে রেজোলিউশন পাঠানো হয়েছিল, সেখানে বহু বিধায়কের সই জালিয়াতি করা হয়েছে। তৃণমূলের টিকিটে জয়ী দুই বিধায়ক—উলুবেড়িয়া পূর্বের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির সন্দীপন সাহা—প্রথম এই অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। তাঁদের অভিযোগ, বিধানসভায় অনুপস্থিত অনেক বিধায়কের নাম ও সই জোর করে রেজোলিউশনে ব্যবহার করা হয়েছে।
বিদ্রোহী বিধায়কদের বিস্ফোরক মন্তব্য:
দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও ঋতব্রত ও সন্দীপন নিজেদের অবস্থানে অনড়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কাউকে না কাউকে তো বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধতেই হতো। আমরা স্পিকারকে বিষয়টি জানিয়েছি।” অন্যদিকে সন্দীপন সাহার অভিযোগ, “একটি অ্যাটেনডেন্স খাতার উপস্থিতিকে রেজোলিউশন হিসেবে চালিয়ে বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছে। এর চেয়ে অনৈতিক আর কী হতে পারে?”
অভিষেকের দিকে আঙুল:
এই জালিয়াতির চিঠিটি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে পাঠানো হয়েছিল। বিদ্রোহী বিধায়কদের স্পষ্ট দাবি, এই কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের আধিকারিকদের যোগসাজশ রয়েছে, তাই তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
তদন্ত ও মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি:
ঘটনার তদন্তে নেমে সিআইডি ইতিমধ্যে ময়দানে নেমেছে। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম এবং অরূপ রায়ের মতো বিধায়কদের সইয়ের সত্যতা যাচাই করতে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অরূপ রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, রেজোলিউশনে থাকা সই তাঁর নয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়ে বলেছেন, “যিনি চিঠি পাঠিয়েছেন (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়), তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে। আইন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তাই নেওয়া হবে।”
সূত্রের খবর, এই ‘জালিয়াতি’ কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি আধিকারিকরা গিয়ে নোটিস দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের অন্দরের এই পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি এবং আইনি জটিলতা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘোরায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।