সোশ্যাল মিডিয়া নয়, এবার মানুষের দরজায়! বিজেপি কর্মীদের বিশেষ বার্তা নীতিন নবীনের

সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল প্রচার থেকে বেরিয়ে এসে এবার সরাসরি মানুষের দুয়ারে পৌঁছানোর ডাক দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দলের সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাসহ দেশের সব রাজ্যের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের বিশেষ বার্তা দিলেন তিনি। বৈঠকে বাংলা থেকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

সংগঠন মজবুত করতে নবীনের ‘তিন নির্দেশ’:
তৃণমূল স্তরে দলের ভিত শক্ত করতে নেতা-কর্মীদের তিনটি বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন নীতিন নবীন:

সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভরতা কমান: ডিজিটাল প্রচারের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে।

সরাসরি জনসংযোগ: ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক কাজ সম্পর্কে প্রচার চালাতে হবে।

কর্মীদের গুরুত্ব: দলের কর্মীদের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং তাঁদের ইচ্ছাকে সাংগঠনিক স্তরে মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

মোদী সরকারের ১২ বছর পূর্তি: বড় কর্মসূচির পরিকল্পনা
২০১৪ সাল থেকে দেশে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে ‘বিশ্বাস, উন্নয়ন এবং জনস্বার্থের কাজ’ স্লোগান তুলে উৎসব পালন করবে বিজেপি। এই কর্মসূচির মূল দিকগুলো হলো:

প্রচার সপ্তাহ: আগামী ৮ থেকে ১৪ জুন পালিত হবে বিশেষ প্রচার সপ্তাহ।

জনকল্যাণ: স্বচ্ছতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং ‘পাবলিক ওয়েলফেয়ার ক্যাম্প’ আয়োজন করা হবে।

প্রেস কনফারেন্স: কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের সাফল্য তুলে ধরা হবে।

প্রচারের মূল কেন্দ্রে থাকবে নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘতম সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কৃতিত্ব।

প্রবীণদের ফেরাতে নতুন ইউনিট:
বিজেপি সূত্রে খবর, দলের পুরোনো এবং দক্ষ সংগঠকদের ফের সক্রিয় করতে একটি নতুন সাংগঠনিক ইউনিট গড়া হয়েছে। দলের ঘরে বসে যাওয়া বর্ষীয়ান কার্যকর্তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর জন্য এই ইউনিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরএসএস নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে এবং পুরনো নেতাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুনদের উদ্যমকে মিলিয়ে চলতেই নীতিন নবীন এই নতুন রণকৌশল নিয়েছেন।