‘পুরো পার্টিটাই জালি’! সই জালিয়াতি কাণ্ডে তৃণমূলকে বেনজির আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত রেজোলিউশনে সই জালিয়াতির অভিযোগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার এই ইস্যুতে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, শাসকদলের অন্দরে ‘মুষল পর্ব’ শুরু হয়েছে।
দিলীপের বিস্ফোরক মন্তব্য:
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ সরাসরি অভিযোগ করেন, “পুরো পার্টিটাই জালি। আর কী আশা করা যায়? যত দ্রুত এই দলটা উঠে যাবে, ততই রাজ্যের পক্ষে মঙ্গল।” এখানেই থামেননি তিনি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, “সবাইকে চুরি করতে শিখিয়েছেন, এখন তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে।” এক রূপক গল্পের অবতারণা করে তিনি বলেন, “ছোটবেলায় একটা গল্প পড়েছিলাম, যেখানে চোর ছেলেটি তার মাসির কান ছিঁড়ে দিয়েছিল এই বলে যে, মাসিই তাকে চুরি করতে শিখিয়েছে। এই মাসির কান কাটা এখনও বাকি আছে।”
কী এই সই জালিয়াতি বিতর্ক?
তৃণমূলের অন্দরে এখন কার্যত অবিশ্বাসের আবহ। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের মোট ১৩ জন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত সোমবার দাবি করেছিলেন, অন্তত তিনজন বিধায়ক সিআইডি-র কাছে স্বীকার করেছেন যে তাঁদের সই জালিয়াতি হয়েছে। যদিও যাঁদের নাম জড়ানো হয়েছে, সেই তালিকায় থাকা কুণাল ঘোষ ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিধায়করা সরাসরি এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার জানান, গত ৯ মে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার অধ্যক্ষকে একটি চিঠি লিখে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দেন। এরপর বিধানসভার প্রধান সচিব তৃণমূলের কাছে দলীয় বৈঠকের ‘মিনিটস’ তলব করেন। ২০ মে সেই চিঠির জবাব এলেও, ২৭ মে দলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা দাবি করেন, ৬ মে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য কোনো বৈঠকই হয়নি। এরপর থেকেই এই সই জালিয়াতি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়কদের সই জালিয়াতির এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিল। সিআইডি তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।