গল্ফগ্রিন কাণ্ড: মেহুলির শরীরে আঘাতের চিহ্ন কেন? ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর তথ্যে গ্রেফতার ৩!

গল্ফগ্রিনের অরবিন্দ নগরের ফ্ল্যাট থেকে তরুণ-তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এবার বড়সড় মোড়। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম—মুসতাক আলি মোল্লা (ওরফে রোহিত), চন্দনকুমার পাসোয়ান এবং অঞ্জলি বাঙ্গিরা। ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট ও রহস্য পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—মেহুলি সান্যাল সম্ভবত অঞ্জলির আগেই মারা গিয়েছেন। মেহুলির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত মদ্যপানের জেরে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি পড়ে গিয়ে আঘাত পেতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ।

সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পার্টির অন্ধকার দিক তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, মেহুলি পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি শাহবাজ নামে এক যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়েছিলেন। কলকাতায় পড়াশোনার সূত্রে মেহুলির সঙ্গে অঞ্জলির আলাপ ও বন্ধুত্ব হয় এবং তারা একসঙ্গেই থাকত। তাদের সম্পর্কের মধ্যে কোনো কারণে ফাটল ধরেছিল বলে খবর।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মেহুলি ও অঞ্জলি নিয়মিত বিভিন্ন হাউস পার্টিতে অংশ নিত। সেখানেই দিলশাদ এবং মুসতাকের সঙ্গে তাদের আলাপ হয়। মৃত্যুর আগের রাতে ওই ফ্ল্যাটেই মদ্যপান ও মাদক সেবনের আসর বসেছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। অভিযুক্ত এবং মৃতরা সবাই সেই পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশি তৎপরতা মেহুলির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অঞ্জলি এবং চন্দনকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই মুসতাকের হদিশ মেলে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে শনিবার রাতে ফ্ল্যাটের অন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা স্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সোমবার ধৃতদের আদালতে হাজির করানো হয়।

উল্লেখ্য, রবিবার সকালে গল্ফগ্রিনের অরবিন্দ নগরের একটি ফ্ল্যাট থেকে তরুণ ও তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। ফ্ল্যাটটি মৃত তরুণীর হলেও, সেখানে নিয়মিত মেহুলি ও অঞ্জলি সহ আরও এক যুগল যাতায়াত করত। এই জোড়া মৃত্যুতে নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত অপরাধের ছায়া রয়েছে—সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।