ফের বাড়ল গ্যাসের দাম! সাধারণ মানুষের পকেটে বড় টান, এক লাফে কত বাড়ল খরচ?

জুন মাসের শুরুতেই ফের মূল্যবৃদ্ধির কবলে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার আঁচ সরাসরি এসে পড়েছে দেশের বাজারে। ১ জুন থেকে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো ৫ কেজি ওজনের ‘ফ্রি ট্রেড এলপিজি’ (FTL) সিলিন্ডারের দাম ১১ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। একইসঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দামও এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।

কত বাড়ল দাম? নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ কেজি ওজনের ছোট সিলিন্ডারের দাম ১১ টাকা বেড়েছে। এর ফলে রাজধানী দিল্লিতে এর দাম দাঁড়িয়েছে ৮২১.৫০ টাকা। কলকাতায় বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটর ভেদে এই দাম ৮৫৮.৫০ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। অন্যদিকে, ১৯ কেজি ওজনের বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দামও প্রতি সিলিন্ডারে ৫৩.৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে কলকাতায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এখন ৩,২৫৫.৫০ টাকা। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সাধারণ গৃহস্থালির ১৪.২ কেজি রান্নার গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

কেন এই সিলিন্ডার সাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? ৫ কেজির এই ছোট সিলিন্ডারগুলি মূলত পরিযায়ী শ্রমিক, বাইরে থাকা শিক্ষার্থী এবং প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কারণ, এই সিলিন্ডার কেনার জন্য কোনো স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্রের প্রয়োজন হয় না। রাস্তার ধারের খাবারের দোকান, চায়ের দোকান বা ছোট ব্যবসা চালাতে এই সিলিন্ডারই তাঁদের ভরসা। ফলে এই দাম বৃদ্ধি সরাসরি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন খরচে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে খরচ: তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর (ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত গ্যাস, বা এইচপি গ্যাস) নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার নতুন ফ্রি-ট্রেড এলপিজি সংযোগ নেওয়ার সময় নিরাপত্তা আমানত বা ডিপোজিট ফি বাবদ সাধারণত ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। সিলিন্ডারটি একবার কেনা হয়ে গেলে, পরবর্তী সময়ে শুধুমাত্র রিফিল বা গ্যাস ভরানোর খরচই দিতে হয়।

সারসংক্ষেপ: বাণিজ্যিক গ্যাস ও ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়লেও, ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত থাকায় আপাতত গৃহস্থের স্বস্তি বজায় রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের আকাশছোঁয়া দাম হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ছোটখাটো খাদ্যসামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।