অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি-র ভিডিওগ্রাফি! সই-জালিয়াতি মামলার তদন্তে নতুন মোড়

বিধানসভার বহুল চর্চিত ‘সই জাল’ মামলার তদন্তে সোমবার বিকেলে নতুন মাত্রা যোগ হলো। সিআইডির তলব এড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে হাজির হলো সিআইডির একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।

হাজিরা এড়ালেন অভিষেক সোমবার দুপুরে সিআইডির ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল অভিষেকের। তবে গত কয়েকদিন আগে সোনারপুরে এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আহত হওয়ার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও চোয়ালে ব্যথার কথা উল্লেখ করে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে ১৫ দিনের সময় চেয়ে সিআইডিকে চিঠিও দেওয়া হয়।

কালীঘাটে সিআইডির অ্যাকশন অভিষেকের হাজিরা এড়ানোর পরেই বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ সিআইডির চার সদস্যের একটি দল তাঁর বাসভবনে পৌঁছায়। তদন্তকারী সূত্রের খবর, কেবল নোটিশ প্রদান নয়, ঘটনার তদন্তের স্বার্থে বাড়ির বিভিন্ন অংশের ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহের কাজ চালিয়েছেন আধিকারিকরা।

কী এই ‘সই জাল’ মামলা? বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিতর্ক দানা বাঁধে। অভিযোগ ওঠে, বিধানসভায় জমা দেওয়া চিঠি ও রেজোলিউশন বুকে প্রায় ১৩ জন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। তাঁদের অনুমতি ছাড়াই নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পরই বিধানসভার সচিব এফআইআর দায়ের করেন। মামলাটির স্পর্শকাতরতা বিচার করেই সিআইডিকে তদন্তভার দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক চাপানউতোর তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তদন্তের নাম করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের মতে, গুরুতর এই অভিযোগে স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিআইডি যেভাবে অভিষেকের বাসভবনে পৌঁছে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিওগ্রাফি করেছে, তা তদন্তের মোড় অনেকটা ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৮ জুন তলব করা নতুন সময়সীমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানী ভবনে হাজিরা দেন কি না।