চিনকে রুখতে নয়া সমীকরণ? মোদির সঙ্গে বৈঠকে মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট, তুঙ্গে জল্পনা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। সোমবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করলেন মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। পাঁচ দিনের ভারত সফরে আসা মায়ানমারের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিশেষ কৌতূহল।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের দীর্ঘ আলোচনায় উঠে এসেছে সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, বাণিজ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ প্রকল্পগুলির কথা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে মায়ানমারের ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে ভারত এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে।
কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ? ১. সীমান্ত নিরাপত্তা: ভারত ও মায়ানমারের প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার খাতিরে এবং অনুপ্রবেশ, মাদক ও মানবপাচার রুখতে মায়ানমারের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অত্যন্ত জরুরি ছিল। ২. কৌশলগত ভারসাম্য: গত পাঁচ বছর আগে মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে এই বৈঠক মায়ানমারের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ভারতের কাছেও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ৩. সম্পদের প্রবেশাধিকার: বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বিরল খনিজ সম্পদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে এবং এই অঞ্চলে চীনের আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মায়ানমার ভারতের কাছে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
চলছে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে এই ধারাবাহিক আলোচনা দুই দেশের কূটনৈতিক বন্ধনকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।