‘তৃণমূল দলটা উঠে যাবে, কেউ বাঁচাতে পারবে না!’ বহিষ্কারের পরেই বিস্ফোরক ঋতব্রত

সই-জাল বিতর্কে জড়িয়ে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। ‘দলবিরোধী কার্যকলাপ’-এর অভিযোগে তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, “তৃণমূল পার্টিটা প্রায় উঠে যাওয়ার পথে। এই দুর্নীতি নিয়ে দল চলতে পারে না।”

দল নিয়ে কেন এমন মন্তব্য ঋতব্রতর? সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, “দল থাকবে না—এটা আমি নিশ্চিত। পরিকল্পনার বিষয় নয়, আমি উলুবেড়িয়ার ভোটারদের কাছে দায়বদ্ধ। স্বাভাবিকভাবে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।” এখানেই থামেননি তিনি, তৃণমূলের অনেক প্রবীণ সাংসদ ও নেতা-নেত্রীরাও নাকি ব্যক্তিগতভাবে এমনটাই মনে করেন বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত।

কী এই সই-জাল বিতর্ক? তৃণমূলের অন্দরে এখন অন্যতম বড় ইস্যু শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করার চিঠি। বিধানসভায় জমা দেওয়া সেই প্রস্তাবিত চিঠিতে বিধায়কদের সই নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। ঋতব্রত ও সন্দীপন এই বিষয়ে মুখ খোলায় এবং প্রশ্ন তোলায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে দল।

ঋতব্রতর অভিযোগ, “৬ তারিখের মিটিংয়ে কোনও রেজোলিউশন নেওয়া হয়নি। ১৯ তারিখ সই করানোর সময় বলা হয় ৬ তারিখের তারিখ বসাতে। আমি ও সন্দীপন যখন সই করতে যাই, দেখি অনেকে সেখানে উপস্থিত নেই, অথচ তাঁদের নাম লিখে রাখা হয়েছে।” এই নৈতিক স্খলনের প্রতিবাদ করতেই কি দল তাঁদের বহিষ্কার করল? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে চাপানউতোর দলীয় নির্দেশ অমান্য করা ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে। তৃণমূলের দাবি, তাঁরা দলের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত ছিলেন। অন্যদিকে, ঋতব্রত ও সন্দীপনের পাল্টা দাবি, তাঁরা নীতিহীন কাজের প্রতিবাদ করেছেন মাত্র।

বিধানসভার সই-বিতর্ক এবং সিআইডি তদন্তের এই আবহেই দুই বিধায়কের বহিষ্কার তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটের ছবিটিকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অন্দরে এই বিদ্রোহের আঁচ তৃণমূলের অদূর ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।