‘২০ টাকার সবজি কিনতে গেলেও তো টিপে দেখেন…’, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে হঠাৎ কেন এমন কথা শুভেন্দুর মুখে?

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বিপুল অর্থ দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বহরমপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে নেমে ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়ার পরই এই ইস্যুতে কড়া পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে এবার বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) গঠনের নির্দেশ দিলেন তিনি। প্রয়োজনে এই ঘটনায় মানি লন্ডারিংয়ের দিকটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট, হিমশৈলের চূড়া মাত্র
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিস্ফোরক দাবি করেন, প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা চলে গেছে। তিনি বলেন, “শুধু জঙ্গিপুর ব্লকেই ৩০০০ ভুয়ো নাম বেরিয়ে আসবে। এটা তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র।” তদন্তে রাকিবুল শেখ, মুস্তাফিজুর রহমান, তুহিনা এবং তারিকুল রহমানের মতো ব্যক্তিদের নাম উঠে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

১২ পাতার ফর্ম নিয়ে কেন এত বিতর্ক?
অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ১২ পাতার ফর্ম ফিলাপ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আসলে প্র্যাকটিক্যালি মাত্র তিনটি পাতা ফিলাপ করতে হচ্ছে। বাকি পাতাগুলো সিএএ (CAA) আবেদন বা কাস্ট সার্টিফিকেট সংক্রান্ত তথ্য। সরকার বছরে ৩৬ হাজার টাকা দিচ্ছে, সেখানে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। ২০ টাকার সবজি কিনতে গেলেও মানুষ টিপে দেখেন, আর এখানে সরকারি টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য সহযোগিতা কেন করা হবে না?”

পাওনাদারের অ্যাকাউন্টে টাকা বুধবার থেকে
দুর্নীতির জাল ছিন্ন করতেই এবার প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই দৈনিক ২ লক্ষের বেশি আবেদন যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বুধবার থেকেই যোগ্য সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতি সাত দিন অন্তর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সাংবাদিক বৈঠক করে প্রকল্পের আপডেট জানাবেন।

সরকারি কোষাগারের অর্থ যাতে কোনোভাবেই অপচয় না হয়, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য—এই বার্তাই যেন উঠে এল মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনে।